• রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৪৪ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]

বিচারককে ধর্ষণ মামলার বাদী, ‘আসামির সাজা হলে আমাকেও ফাঁসি দিতে হবে’

Reporter Name / ২ Time View
Update : রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ঝালকাঠির নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি ধর্ষণ মামলার যুক্তিতর্ক চলাকালে নজিরবিহীন হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে। আদালতের বিচারকাজ চলাকালীন মামলার বাদী এজলাসে উচ্চস্বরে চিৎকার শুরু করেন এবং বিচারকের কাছে অদ্ভুত এক দাবি উত্থাপন করেন। তিনি মামলার আসামির কোনো সাজা না চেয়ে তাঁকে স্বামী হিসেবে পেতে চান বলে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এই আকস্মিক ঘটনায় বিচারকসহ এজলাসে উপস্থিত আইনজীবীরা হতবাক হয়ে যান এবং কিছুটা অস্বস্তিকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। আদালতের কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটিয়ে বাদী বিচারককে অভিযুক্তের সঙ্গে নিজের বিয়ের ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন।

জানা গেছে, ২০২০ সালের শেষদিক থেকে বিভিন্ন সময়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই নারীকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। অভিযুক্ত ব্যক্তি একজন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা, যিনি একসময়ে রাজাপুর থানায় কর্মরত ছিলেন। ভুক্তভোগী নারী পরবর্তীতে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেন এবং আদালতে মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে মামলাটি বর্তমানে যুক্তিতর্ক শুনানির পর্যায়ে রয়েছে। কিন্তু মামলার রায় ঘোষণার ঠিক আগমুহূর্তে বাদী সম্পূর্ণ ইউটার্ন নিয়ে আসামিকে বাঁচানোর পক্ষে অবস্থান নেন এবং তাঁকে আইনি শাস্তি দেওয়ার পরিবর্তে নিজের জীবনসঙ্গী হিসেবে দাবি করেন।

আদালতের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ শরীফ মোহাম্মদ সানাউল হক বাদীকে শান্ত করার চেষ্টা করে জানান যে, আদালতের পক্ষে আইন অনুযায়ী বিচার করা সম্ভব, কাউকে জোর করে বিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। এতে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে বাদী বিচারকের সামনেই আত্মহত্যার হুমকি দেন। তিনি চিৎকার করে বলেন, আদালতের মাধ্যমে আসামির সঙ্গে তাঁর বিয়ে না দেওয়া হলে তিনি বিষপান করে জীবন বিসর্জন দেবেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এবং আসামিপক্ষের আইনজীবী মল্লিক মুহা. নাসির উদ্দিন কবীর উভয়েই জানান যে, শুনানিকালে বাদী অত্যন্ত আক্রমণাত্মক আচরণ করেছেন এবং আদালতের কার্যক্রমে মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি করেছেন।

মামলার রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি মো. আককাস সিকদার জানান, বাদী মৌখিক হুমকির পাশাপাশি ট্রাইব্যুনালে একটি লিখিত আবেদনও জমা দিয়েছেন। ওই আবেদনেও তিনি অভিযুক্ত সাবেক পুলিশ সদস্যকে স্বামী হিসেবে পাওয়ার আকুতি জানান এবং দাবি পূরণ না হলে নিজের সন্তানসহ ট্রাইব্যুনালের সামনে আত্মহত্যার ভয় দেখান। শুধু তাই নয়, বাদী আইনজীবীর ব্যক্তিগত চেম্বারে গিয়েও হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিচারপ্রার্থী নারীর এমন অস্বাভাবিক আচরণ ও হুমকির কারণে বিচারকার্য পরিচালনা করতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে বেশ বেগ পোহাতে হয়েছে।

নিজের এই অবস্থানের পক্ষে সাফাই গেয়ে মামলার বাদী গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, তিনি আল-আমিনকে আইনি সাজা দেওয়ার জন্য মামলাটি করেননি। তিনি কেবল অভিযুক্তকে নিজের স্বামী হিসেবে ফিরে পাওয়ার জন্যই আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। আদালতের রায়ে আসামির ফাঁসি বা অন্য কোনো শাস্তি হলে তাতে তাঁর কোনো লাভ হবে না বলে তিনি দাবি করেন। আইন অনুযায়ী ধর্ষণ মামলার বিচার প্রক্রিয়া তার নিজস্ব গতিতে চললেও বাদীর এমন অনড় ও নাটকীয় অবস্থানের কারণে পুরো বিচার প্রক্রিয়াই এক ভিন্ন মোড় নিয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bditwork.com