নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীতে ট্রলারডুবির ঘটনার পর নিখোঁজ চার যাত্রীকে উদ্ধারে জোরেশোরে অভিযান চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সম্প্রতি বিকেলে বৈদ্যের বাজার এলাকার সোনাময়ী পয়েন্টে আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ের কবলে পড়ে যাত্রীবাহী ট্রলারটি নদীর মাঝে ডুবে যায়। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় রাশিদা বেগম নামের এক নারী মারা যান এবং একই পরিবারের চার সদস্য নিখোঁজ হন। ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা উদ্ধারকাজে হাত দেন এবং পরবর্তীতে পেশাদার উদ্ধারকারী দলগুলো যোগ দেয়।
দুর্ঘটনার শিকার ট্রলারটির অবস্থান ইতোমধ্যে শনাক্ত করা গেলেও ভেতরে কোনো মরদেহ পাওয়া যায়নি। নিখোঁজ ব্যক্তিরা হলেন হেলাল মিয়া, তাঁর ছেলে সজিব এবং দুই কন্যা সামিয়া ও সামিন। এরা সবাই কুমিল্লা জেলার শ্রীমন্দী গ্রামের বাসিন্দা এবং একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে ট্রলারটিতে ভ্রমণ করছিলেন। মাঝনদীতে আবহাওয়া খারাপ হয়ে পড়লে মাঝির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রলারটি উল্টে যায় এবং যাত্রীরা পানিতে তলিয়ে যান।
নদীর তীব্র স্রোত ও প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও উদ্ধারকাজ অব্যাহত রেখেছে ফায়ার সার্ভিস, কোস্ট গার্ড, নৌ পুলিশ এবং বিআইডব্লিউটিএ। দুর্ঘটনা ঘটার পরদিন সকাল থেকে এই যৌথ দলগুলো মেঘনা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে তল্লাশি পরিচালনা করছে। এর আগে ঘটনার দিন সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত টানা উদ্ধার অভিযান চালিয়েও নিখোঁজদের সন্ধান মেলেনি। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশাবাদী যে, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় খুব দ্রুত নিখোঁজদের খোঁজ পাওয়া সম্ভব হবে।
এদিকে ট্রলারডুবির এই আকস্মিক দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া আটজন যাত্রী ও স্থানীয়রা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হওয়া যাত্রীরা জানান, মুহূর্তের ঝড়ে চোখের পলকে ট্রলারটি তলিয়ে যায়। স্থানীয় চিকিৎসালয়ে নেওয়ার পর মারা যাওয়া নারীর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিখোঁজ স্বজনদের উদ্ধারের অপেক্ষায় নদীর পাড়ে ভিড় জমিয়েছেন শোকস্তব্ধ পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় এলাকাবাসী।