• শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:২০ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনামঃ
ইরান যুদ্ধ থামাতে যুক্তরাষ্ট্রকে সংলাপে ফেরার আহ্বান শি জিনপিংয়ের রাশিয়ার জন্য এবারের শীতকে যন্ত্রণাদায়ক করে তুলব—জাতিসংঘে জেলেনস্কির হুঁশিয়ারি ট্রাম্প-সি বৈঠক: বাণিজ্য, এআই ও তাইওয়ান নিয়ে আলোচনায় দুই নেতা হোয়াইট হাউসে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে ট্রাম্প-শি, আলোচনায় বাণিজ্য-প্রযুক্তি-নিরাপত্তা জাতিসংঘে সাধারণ পরিষদের সভাপতির দপ্তরে ‘লিগ্যাল অফিসার’হলেন জাইমা হোয়াইট হাউসে সি—ট্রাম্প বললেন, মার্কিন-চীন সম্পর্ক নিয়ে আমি গর্বিত জুডিশিয়াল সার্ভিসে সুপারিশ পেলেন তুরি জনগোষ্ঠীর কাজল পাঁড়ে স্কুল থেকে ফিরেই গোয়ালঘরে, গরুর গুঁতায় শিক্ষিকার মৃত্যু জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বাংলাদেশ সময় রাত ৩টা জাতিসংঘে খলিলুরের কার্যালয়ে লিগ্যাল অফিসার হলেন জাইমা রহমান

অ-আপসযোগ্য মামলা ৯ লাখে আপস

Reporter Name / ২ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বারিধারায় বেপরোয়া গাড়িচাপায় নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান মীমের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ৯ লাখ টাকায় সমঝোতা হয়েছে বলে জানিয়েছে আসামিপক্ষ। তবে যে ধারায় মামলাটি করা হয়েছে, সেগুলো আইন অনুযায়ী অ-আপসযোগ্য। আইনজীবীরাও বলছেন, স্ট্যাম্পে করা এ ধরনের ব্যক্তিগত সমঝোতা আইনের দৃষ্টিতে মামলা নিষ্পত্তির সমান নয়। ফলে নিহতের পরিবারের সঙ্গে ৯ লাখ টাকার সমঝোতা হলেও মামলার আইনগত কার্যক্রম চলার কথা।

গত মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বারিধারা কূটনৈতিক এলাকার ১ নম্বর সড়কে জার্মান দূতাবাসের কাছে বেপরোয়া একটি গাড়ি ফুটপাতে উঠে গেলে চাপায় মারা যান নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান মীম (২৪)।

দ্য ডিসেন্টের প্রতিবেদনে মামলার নথির সূত্রে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনার সময় গাড়িটি চালাচ্ছিল ১৭ বছরের এক কিশোর। সে ঢাকার গুলশান এলাকার একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের ‘ও’ লেভেলের শিক্ষার্থী। তার বাবা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একজন ক্যাপ্টেন। দুর্ঘটনাকবলিত প্রাইভেট কারটি তার মায়ের নামে নিবন্ধিত।

দুর্ঘটনার একটি ফুটেজে দেখা যায়, মেহেদীকে চাপা দেওয়ার পর গাড়িটি একটি ল্যাম্পপোস্টে সজোরে ধাক্কা খেয়ে থেমে যায়। এরপর গাড়ি থেকে দুজনকে বের হতে দেখা যায়। গাড়ির ডান পাশের দরজা দিয়ে চালকের আসন থেকে কালো টি-শার্ট পরা এক কিশোর বেরিয়ে আসে। অন্য পাশ দিয়ে শার্ট পরা মধ্যবয়সী একজন বের হন।

এজাহারে কিশোরের নাম নেই

ঘটনার পর একইদিন দিবাগত রাত ১২টার দিকে গুলশান থানায় এজাহার দায়ের করেন নিহতের বড় ভাই মোক্তাদীর ইসলাম।

যদিও এজাহারে অভিযুক্ত কিশোরের নাম ছিল না। সেখানে আকাশ মারক (৪৪) নামে এক ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়। এজাহার ও আপসনামায় তাকে ওই গাড়ির চালক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক আছেন।

মামলার পরদিন বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে অভিযুক্ত কিশোরকে আটক করে পুলিশ।

পরে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) তাকে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে (সংশোধনাগার) পাঠানোর আদেশ দেয় আদালত। ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল–৮ এর বিচারক মো. আব্দুল মোক্তাদির শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।

৯ লাখ টাকায় সমঝোতা

গাড়িচাপায় নির্মাণশ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় আটটি শর্তে ৯ লাখ টাকা আপোষের কথা জানিয়েছেন মামলার আসামিপক্ষের আইনজীবী আলমগীর হোসেন। বৃহস্পতিবার ঢাকার শিশু আদালতে শুনানি শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।

আইনজীবী আলমগীর হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘দুই পক্ষের মধ্যে ৯ লাখ টাকায় আপস হয়েছে। ইতোমধ্যে ওই টাকা নিহতের পরিবারের সদস্যদের দেওয়া হয়েছে। আপসনামায় সই করে তারা আসামির জামিন বা খালাসের বিষয়ে কোনো আপত্তি না থাকার কথা জানিয়েছেন।’

আলমগীর হোসেন বলেন, ‘নিহত মেহেদী বাকপ্রতিবন্ধী ছিলেন এবং কানে শুনতে পেতেন। দুর্ঘটনার পর নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো আপত্তি বা অভিযোগ করা হয়নি দাবি করে তিনি বলেন, মধ্যস্থতার মাধ্যমে ৯ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। নিহতের মা-বাবা বয়স্ক হওয়ায় তাদের দেখাশোনার বিষয়টিও আপোষের ক্ষেত্রে বিবেচনা করা হয়েছে।’

আপসনামাটি কোথায় করা হয়েছে জানতে চাইলে এই আইনজীবী বলেন, ‘ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান শান্তা মরিয়মের কার্যালয়ে দুই পক্ষের উপস্থিতিতে আপস হয়েছে। সেখানে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি নিহতের মামা ও ভাই এবং আসামিপক্ষের লোকজন উপস্থিত ছিলেন।’

নিহতের পরিবারকে কোনো ভয়ভীতি বা চাপ দেওয়া হয়েছে কি-না? জানতে চাইলে আইনজীবী আলমগীর হোসেন বলেন, ‘তাদের কোনো ভয়ভীতি বা চাপ দেওয়া হয়নি। তারা ৯ লাখ টাকা নিয়েছেন এবং এ বিষয়ে তাদের কোনো অভিযোগ নেই। পরিবারের পক্ষ থেকে পোস্টমর্টেম করাতেও আপত্তি ছিল এবং তারা মামলা করতে চাননি বলে দাবি করেন তিনি।’

একটি জীবনের মূল্য ৯ লাখ টাকা হতে পারে কি-না? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আলমগীর হোসেন বলেন, ‘নিহত ব্যক্তি প্রতিবন্ধী ছিলেন এবং বাদীপক্ষ আপস করতে চেয়েছে। তারা ১০ লাখ টাকা দাবি করলেও পরে ৯ লাখ টাকায় সমঝোতা হয়েছে বলে জানান তিনি।’

মেহেদীর ভাই ও মামলার বাদী মোক্তাদির ইসলাম সাংবাদিকদের কাছে আপোষের বিষয়টি স্বীকার করলেও কত টাকায় আপস হয়েছে, তা বলেননি।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মেহেদীর ভাই মোক্তাদির বলেন, ‘মামলার বিষয়ে আপস হয়েছে। কত টাকায় আপস হয়েছে জানি না। আমার মামা জানেন।’

এ বিষয়ে জানতে গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে এজাহারে উল্লেখিত মোক্তাদীরের নম্বরে যোগাযোগ করা হলে নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। এর প্রায় ২ ঘণ্টা পরে একই নম্বরে কল করে খোলা পাওয়া যায়। তবে একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি।

কী আছে আপসনামায়

আপসনামায় বলা হয়েছে, ‘গত ২২ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫ টায় গুলশান থানাধীন বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক এলাকার এক নম্বর সড়কে একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। প্রথম পক্ষের একটি প্রাইভেট কার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের ফুটপাতে উঠে গেলে সেখানে বসে থাকা দ্বিতীয় পক্ষের ছোট ভাই মেহেদী হাসান মীম (২৪) গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর আহত হন এবং মৃত্যুবরণ করেন। দুর্ঘটনার সময় প্রথম পক্ষের গাড়িচালক আকাশ মারক গাড়ি চালাচ্ছিলেন এবং ওই কিশোর (অভিযুক্ত) গাড়িতে ছিলেন।’

আপসনামায় বলা হয়, যেহেতু পক্ষদ্বয়ের মাঝে পূর্ব শত্রুতা ছিল না এবং ঘটনাটি সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত একটি দুর্ঘটনা, তাই সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় উভয় পক্ষের ভবিষ্যৎ মঙ্গল কামনায় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং নিকট আত্মীয়দের মধ্যস্থতায় আটটি সিদ্ধান্তের আলোকে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তি ও আপস-মীমাংসা করা হল।

আপসনামায় উল্লেখ করা আটটি সিদ্ধান্ত হলো-

১. মেহেদী হাসান মীমের দাফন-কাফনসহ ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা সারতে প্রথম পক্ষ সহায়তা হিসেবে তাৎক্ষণিক নগদ এক লাখ টাকা দেয়। এছাড়া দ্বিতীয় পক্ষের বৃদ্ধ পিতা-মাতার ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে আরও নগদ ৮ লাখ টাকা দেওয়া হয়।

২. দ্বিতীয় পক্ষের নিকট আত্মীয়-স্বজন এবং সাক্ষীদের উপস্থিতিতে প্রথম পক্ষ ৯ টাকা দেয়।

৩. অঙ্গীকার অনুযায়ী দ্বিতীয় পক্ষ দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারে কার্যকর ব্যবস্থা নেবে। মামলা প্রত্যাহারের লক্ষ্যে ১৭ বছরের ওই কিশোর ও গাড়ি চালক আকাশ মারকের জামিনে অনাপত্তি তথা সুপারিশ জানাতে দ্বিতীয় পক্ষ আদালতে উপস্থিত থাকবে।

৪. মামলা প্রত্যাহারের যাবতীয় ব্যয়ভার প্রথম পক্ষ বহন করবে, কিন্তু দ্বিতীয় পক্ষ সার্বিক সহায়তা করবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী হাজির থাকিবে।

৫. প্রথম পক্ষ দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত তার গাড়ি মেরামত কিংবা আহত গাড়ি চালক ও ভাইয়ের চিকিৎসা বাবদ দ্বিতীয় পক্ষের কাছে কোনো ক্ষতিপূরণ দাবি করবে না।

৬. প্রথম পক্ষের ওই ড্রাইভারের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় পক্ষ আর কোনো অভিযোগ-আপত্তি রাখতে পারবে না এবং ভবিষ্যতে এই বিষয় নিয়ে কোনো আদালত কিংবা সালিশে কোনো অভিযোগ উত্থাপন করলে তা সর্বতোভাবে অগ্রাহ্য হবে।

৭. এর বাইরে তাদের মধ্যে কোনো আর্থিক লেনদেন কিংবা লেনদেনের অঙ্গীকার অবশিষ্ট থাকল না। উভয় পক্ষ একে অপরের ভুল ত্রুটি ক্ষমা করে দিয়ে পরস্পরের শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে বসবাস করবে। কেউ কারো ক্ষতি সাধনের চিন্তা কিংবা হয়রানি করবে না। উভয় পক্ষ সর্বদা উভয়ের মঙ্গল কামনা করিবে।

৮. কোনো পক্ষ এই চুক্তিনামার কোনো শর্ত লঙ্ঘন করলে তা অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গ ও প্রতারণা বলে গণ্য হবে।

যে ধারাগুলো অ-আপসযোগ্য

গাড়িচাপায় নিহতের ঘটনায় সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ৯৮ ও ১০৫ নম্বর ধারায় মামলা দায়ের করেন নিহতের ভাই।

সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮-এর ৯৮ ধারায় ওভারলোডিং বা নিয়ন্ত্রণহীনভাবে মোটরযান চালনার ফলে দুর্ঘটনায় জীবন ও সম্পত্তির ক্ষতিসাধনের দণ্ড সম্পর্কিত বিধান উল্লেখ আছে।

এই ধারায় বলা হয়েছে, ‘যদি নির্ধারিত গতিসীমার অতিরিক্ত গতিতে বা বেপরোয়াভাবে বা ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং বা ওভারলোডিং বা নিয়ন্ত্রণহীনভাবে মোটরযান চালনার ফলে কোনো দুর্ঘটনায় জীবন ও সম্পত্তির ক্ষতি সাধিত হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট মোটরযানের চালক বা কন্ডাক্টর বা সহায়তাকারী ব্যক্তির অনুরূপ মোটরযান চালনা হবে একটি অপরাধ, এবং তার জন্য তিনি অনধিক ৩ (তিন) বৎসর কারাদণ্ড, বা অনধিক ৩ (তিন) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন এবং আদালত অর্থদণ্ডের সম্পূর্ণ বা অংশবিশেষ ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে প্রদানের নির্দেশ প্রদান করিতে পারবেন।’

আইনটির ১০৫ ধারায় দুর্ঘটনা সংক্রান্ত অপরাধের বিধান রয়েছে। এই ধারা মতে, ‘মোটরযান চালনাজনিত কোনো দুর্ঘটনায় গুরুতরভাবে কোনো ব্যক্তি আহত হলে বা প্রাণহানি ঘটলে, তৎসংক্রান্ত অপরাধসমূহ Penal Code, 1860 এর এতদসংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী অপরাধ বলে গণ্য হবে।’

এতে আরও বলা আছে, ‘তবে Penal Code, 1860 এর section 304B এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোনো ব্যক্তির বেপরোয়া বা অবহেলাজনিত মোটরযান চালনার কারণে সংঘটিত দুর্ঘটনায় কোনো ব্যক্তি গুরুতরভাবে আহত হলে বা প্রাণহানি ঘটলে, উক্ত ব্যক্তি অনধিক ৫ (পাঁচ) বৎসর কারাদণ্ড, বা অনধিক ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।’

২০১৮ সালের সড়ক পরিবহন আইনের ১১৭ ধারা অনুযায়ী, এই দুই ধারার অধীন সংগঠিত অপরাধ জামিনঅযোগ্য ও অ-আপসযোগ্য হবে।

‘তদন্তে এর প্রভাব পড়বে না’

আপোষের বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আরেফীন ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিষয়টি তার জানা নেই।’’ তদন্তে এর প্রভাবে পড়বে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “না, আমরা আমাদের মত তদন্ত করে যাবো।’

এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন-অর-রশীদ সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘সড়ক পরিবহন আইনে দায়ের করা মামলা আপসযোগ্য নয়। বাদী বা আসামিপক্ষের মধ্যে আপস হলে আদালত সেটা গ্রহণ করতে বাধ্য না। মানুষ মারা যাবে। সেই মামলায় আপস হলে তা গ্রহণযোগ্য নয়।’

‘আইনের দৃষ্টিতে আপস নয়, ব্যক্তিগত সমঝোতা’

আপোষের বিষয়টি আইনের দৃষ্টিতে আপস নয়, বরং দুই পক্ষের ব্যক্তিগত সমঝোতা মাত্র বলে মনে করছেন সাবেক সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন।

এই আইনজীবী বলেন, ‘সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ এর ১১৭ ধারা অনুযায়ী কেবল ৬৬, ৭২, ৭৫, ৮৭, ৮৯ ও ৯২ ধারার অপরাধ আপসযোগ্য। এই মামলা দায়ের হয়েছে ৯৮ ও ১০৫ ধারায়, যা আপসযোগ্য নয় এবং জামিন-অযোগ্যও। তাই ৯ লাখ টাকার বিনিময়ে যে আপসনামা করা হয়েছে, আইনের দৃষ্টিতে তা কোনো আপস নয়। এটি দুই পক্ষের একটি ব্যক্তিগত সমঝোতা মাত্র।’

তিনি আরও বলেন, ‘অ-আপসযোগ্য অপরাধ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অপরাধ। বাদী চাইলেই এ মামলা শেষ হয়ে যায় না। আইনে আপস করানোর ক্ষমতা নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দেওয়া হয়েছে, এবং তাও কেবল আপসযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে। সেই প্রক্রিয়ার বাইরে স্ট্যাম্পে করা চুক্তি আদালতে গ্রহণযোগ্য নয়।’

অ্যাডভোকেট শাহিন বলেন, ‘মামলা থেকে সরে আসার বিনিময়ে অর্থ লেনদেনের চুক্তি জনস্বার্থবিরোধী হওয়ায় চুক্তি আইনেও তা অকার্যকর। উল্টো অপরাধীকে শাস্তি থেকে আড়াল করার বিনিময়ে অর্থ দেওয়া-নেওয়ার বিষয়টি দণ্ডবিধির ২১৩ ও ২১৪ ধারার প্রশ্নও তুলতে পারে।’

অ্যাডভোকেট শাহিন আরও বলেন, ‘এই আপসনামার কারণে মামলা আইনত শেষ হবে না। পুলিশ তদন্ত করে প্রতিবেদন দেবে, আর আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে বিচার করবেন। মামলা প্রত্যাহারের একমাত্র আইনি পথ হলো পাবলিক প্রসিকিউটরের আবেদন এবং আদালতের সম্মতি। আদালত বড়জোর জামিন বা দণ্ড নির্ধারণের সময় বিষয়টি বিবেচনায় নিতে পারেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘একটি প্রাণের মূল্য টাকায় মীমাংসা করে বিচারপ্রক্রিয়া এড়িয়ে যাওয়ার সংস্কৃতি সড়কে বেপরোয়া আচরণকেই উৎসাহিত করে। আইন এ কারণেই এসব অপরাধকে আপোষের বাইরে রেখেছে।’

সূত্র: দ্য ডিসেন্ট


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bditwork.com