• বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩৯ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনামঃ
শেষ মুহূর্তের সিদ্ধান্তে নেপালে বেঁচে যান মার্কিন দম্পতি ক্ষুধার তাড়নায় মিষ্টি কেড়ে খেয়েছিলেন নুর, গণপিটুনির পর আদালতে জরিমানা দিয়ে মুক্তি নোয়াখালীতে ধরা পড়ল ৩ কেজির ইলিশ, বিক্রি হলো যে দামে উত্তরা থেকে গ্রেপ্তার ‘ভারতীয় নাগরিক’ রবিউল ৪ দিনের রিমান্ডে ঢাকায় অফিস খুলতে আগ্রহী মেটা পদোন্নতিতে জ্যেষ্ঠতা তালিকার জন্য নার্সিং কর্মচারীদের কাগজপত্র জমার নির্দেশ সাগরে গভীর নিম্নচাপ, তিন সমুদ্রবন্দরে সতর্ক সংকেত সংশোধিত ইউপি নির্বাচন বিধিমালা চূড়ান্ত, হুমকি দিলে শাস্তি রাজমিস্ত্রি থেকে ‘হ্যাকিং সম্রাট’, দলে আছেন পুলিশ সদস্যও উখিয়ায় সমুদ্রসৈকত থেকে তিন অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার

সংশোধিত ইউপি নির্বাচন বিধিমালা চূড়ান্ত, হুমকি দিলে শাস্তি

Reporter Name / ৮ Time View
Update : বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের সংশোধিত বিধিমালা চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নতুন বিধিমালায় চেয়ারম্যান ও সদস্য প্রার্থীদের জামানত পাঁচ গুণ পর্যন্ত বাড়ানোর পাশাপাশি নির্বাচনি ব্যয়ের সর্বোচ্চ সীমা দ্বিগুণ করা হয়েছে। নির্বাচনে প্রদত্ত মোট ভোটের ১৫ শতাংশের কম ভোট পেলে প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। একই সঙ্গে চেয়ারম্যান প্রার্থীর জন্য নির্বাচনি হলফনামা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

এতে প্রার্থীর টিআইএন নম্বর, দেশে-বিদেশে নিজের ও নির্ভরশীলদের সম্পদের হিসাব এবং ফেরারি আসামি কি না- এসব তথ্য দিতে হবে। প্রস্তাবক ও সমর্থককে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকার ভোটার হতে হবে।

এসব বিষয় রেখে বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন বিধিমালা, ২০২৬-এর সংশোধনী গেজেট প্রকাশ করেছে কমিশন। গত ১৭ সেপ্টেম্বর ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ সংশোধিত বিধিমালায় স্বাক্ষর করেন।

সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী, চেয়ারম্যান প্রার্থীর জামানত ৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ হাজার এবং সদস্য (পুরুষ ও নারী মেম্বার) প্রার্থীর জামানত ১ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ট্রেজারি চালান, পে-অর্ডার বা ব্যাংক ড্রাফটের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার অনুকূলে এ জামানত জমা দিতে হবে। কোনো প্রার্থীর পক্ষে একাধিক মনোনয়নপত্র দাখিল করা হলেও একাধিক জামানত দিতে হবে না।

এছাড়া সংশোধিত বিধিমালায় চেয়ারম্যান প্রার্থীর নির্বাচনী ব্যয়ের সর্বোচ্চ সীমা ১০ লাখ টাকা এবং সদস্য প্রার্থীর জন্য ২ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগে চেয়ারম্যান প্রার্থীর ব্যয়ের সীমা ছিল ৫ লাখ এবং সদস্য প্রার্থীর ১ লাখ টাকা। ফলে উভয় পদেই সর্বোচ্চ ব্যয়ের সীমা দ্বিগুণ হয়েছে।

চেয়ারম্যান প্রার্থীর নির্বাচনি ব্যয়ের হিসাব পরিচালনার জন্য তফসিলি ব্যাংকে আলাদা হিসাব খুলতে হবে। নির্বাচনি ব্যয়ের সব অর্থ ওই হিসাব থেকে ব্যয় করতে হবে। কোনো খাতে ২০ হাজার টাকা বা তার বেশি ব্যয় হলে তা চেকের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে।

নির্বাচন-পূর্ব প্রচারণার ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদ (নির্বাচন আচরণ) বিধিমালা, ২০২৬-এর বিধান প্রযোজ্য হবে। ওই বিধিমালার পরিপন্থী কোনো কার্যক্রমে অর্থ ব্যয় করা যাবে না।

১৫ শতাংশের কম ভোটে জামানত বাজেয়াপ্ত

নতুন বিধান অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী সংশ্লিষ্ট নির্বাচনে প্রদত্ত মোট ভোটের অন্তত ১৫ শতাংশ পেলে তাঁর জামানতের অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। ১৫ শতাংশের কম ভোট পেলে জামানত বাজেয়াপ্ত করে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে। এর আগে ১২ দশমিক ৫ শতাংশের কম ভোট পেলে জামানত বাজেয়াপ্ত করার বিধান ছিল। জামানত ফেরত পাওয়ার যোগ্য কোনো প্রার্থী সরকারি গেজেটে নির্বাচনের ফল প্রকাশের ছয় মাসের মধ্যে তা গ্রহণ না করলে ওই অর্থও সরকারি কোষাগারে জমা হবে।

দিতে হবে দেশ-বিদেশের সম্পদের হিসাব

বিগত ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থীর নির্বাচনি হলফনামা দেওয়ার বিধান ছিল না। এবার সংশোধিত বিধিমালায় চেয়ারম্যান প্রার্থীর জন্য হলফনামা দেওয়ার বিধান যুক্ত করা হয়েছে। তবে সদস্য প্রার্থীদের ক্ষেত্রে এ বিধান রাখা হয়নি। হলফনামায় প্রার্থী ও তার ওপর নির্ভরশীলদের দেশে-বিদেশে থাকা সম্পদের হিসাব দিতে হবে। পাশাপাশি আয়কর রিটার্নের প্রমাণপত্র এবং টিআইএন নম্বর দিতে হবে।

ফেরারি আসামি কি না থাকতে হবে হলফনামায়

চেয়ারম্যান প্রার্থীকে হলফনামায় ঘোষণা দিতে হবে তিনি ফেরারি আসামি কি না। ফলে প্রার্থীর আর্থিক সম্পদ ও আয়করসংক্রান্ত তথ্যের পাশাপাশি তার মামলাসংক্রান্ত অবস্থার তথ্যও হলফনামায় প্রকাশের বিধান করা হয়েছে।

হুমকি দিলে শাস্তি, প্রার্থিতা বাতিল করতে পারবে ইসি

সংশোধিত বিধিমালায় নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। কোনো উৎস থেকে পাওয়া রেকর্ড বা লিখিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কোনো প্রার্থী বা তার নির্বাচনী এজেন্টের বিরুদ্ধে বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রতীয়মান হলে কমিশন তাৎক্ষণিক তদন্তের নির্দেশ দিতে পারবে।

তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে কমিশন লিখিত আদেশে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করতে পারবে। এ আদেশ সংশ্লিষ্ট প্রার্থী, তার নির্বাচনী এজেন্ট ও রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানাতে হবে এবং সরকারি গেজেটে প্রকাশের ব্যবস্থা করতে হবে।

এ ছাড়া নির্বাচনি দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি, কমিশন অনুমোদিত গণমাধ্যমকর্মী বা পর্যবেক্ষককে হুমকি, ভয়ভীতি, আঘাত বা বলপ্রয়োগ করে বাধা দেওয়া কিংবা তাদের ব্যবহৃত সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত করাও অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

একইভাবে ভোটারকে ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া, কোনো প্রার্থীকে মনোনয়নপত্র দাখিল থেকে বিরত রাখা বা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারে বাধ্য করাও অপরাধ। এসব অপরাধে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

কেন্দ্রের ফল স্থগিত, প্রয়োজনে পুনঃভোট

কোনো ভোটকেন্দ্রের ফলাফল বলপ্রয়োগ, ভীতি প্রদর্শন, কারসাজি বা অন্যকোনো অপকর্মের কারণে চরমভাবে পক্ষপাতদুষ্ট হলে কমিশন ওই কেন্দ্রের ফলাফল স্থগিত করতে পারবে। অনুসন্ধানের পর প্রয়োজন মনে করলে ওই কেন্দ্রের নির্বাচন বাতিল করে পুনরায় ভোটগ্রহণের নির্দেশও দিতে পারবে।

সমান ভোট হলে পুনঃভোট

দুই বা ততোধিক প্রার্থী সর্বোচ্চ সমান ভোট পেলে লটারির মাধ্যমে ফল নির্ধারণের বিধান বাতিল করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সমান ভোট পাওয়া প্রার্থীদের মধ্যে পুনঃভোট অনুষ্ঠিত হবে।

সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী, এ ধরনের পরিস্থিতিতে পুনঃভোট গ্রহণের জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেবে কমিশন।

প্রতিবন্ধী ভোটারদের সহায়তায় নতুন বিধান

দৃষ্টি বা শারীরিক প্রতিবন্ধী কিংবা অন্যকোনো কারণে সহায়তা প্রয়োজন এমন ভোটারকে ভোটদানে সহায়তার জন্য কমপক্ষে ২১ বছর বয়সী একজন ব্যক্তিকে সঙ্গে নেওয়ার অনুমতি দিতে পারবেন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা।

ভোটার নিজে ব্যালট পেপারে চিহ্ন দিতে না পারলে তার নির্দেশনা অনুযায়ী সহায়তাকারী চিহ্ন দিতে পারবেন। তবে সহায়তাকারী কোনো প্রার্থী, প্রার্থীর এজেন্ট, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য হতে পারবেন না।

সহায়তাকারীকে ভোটারের পছন্দ গোপন রাখার নির্দেশনা দিতে হবে এবং এ ধরনের ভোটারের তালিকা সংরক্ষণ করবেন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা।

মনিটরিং কমিটি গঠন

ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচনি অপরাধ ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়গুলো মনিটরিং করতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক মনিটরিং কমিটি গঠন করতে পারবে কমিশন।

কোনো প্রার্থী, নির্বাচনি এজেন্ট বা পোলিং এজেন্ট নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত না থাকলেও তাদের অনুপস্থিতির কারণে আইনানুগভাবে সম্পন্ন কোনো কার্যক্রম অবৈধ হবে না। তবে রিটার্নিং বা প্রিসাইডিং কর্মকর্তা তাদের উপস্থিতি নিশ্চিতের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করতে হবে এবং অনুপস্থিতির কারণ লিখিতভাবে কমিশনকে জানাতে হবে।

থাকছে ৪২ প্রতীক সংরক্ষণ

সংশোধিত বিধিমালায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীকের বিধান বাতিল করা হয়েছে। ফলে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হবে। আসন্ন ইউপি নির্বাচন নির্দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হবে। সংশোধিত বিধিমালায় চেয়ারম্যান পদের জন্য ২০টি, সাধারণ সদস্য পদের জন্য ১২টি এবং সংরক্ষিত নারী সদস্য পদের জন্য ১০টি প্রতীক রাখা হয়েছে।

চেয়ারম্যান পদের ২০টি প্রতীক হলো- কম্পিউটার, কলার ছড়ি, ঘণ্টা, ঘোড়া, চিংড়ি, জগ, টেবিল, টেবিল ঘড়ি, টেলিফোন, দালান, দোতলা বাস, পাগড়ি, বেবি টেক্সি, ময়ূর, মোবাইল ফোন, মোটরসাইকেল, মোড়া, রেল ইঞ্জিন, সোফা ও হাঁস।

সাধারণ সদস্য পদের ১২টি প্রতীক হলো- উট, কাপ-পিরিচ, ঘুড়ি, জাহাজ, টর্চ লাইট, টিউবওয়েল, ট্রাক্টর, তালা, ফুটবল, বৈদ্যুতিক পাখা, বৈদ্যুতিক বাল্ব ও মোরগ। সংরক্ষিত নারী সদস্য পদের ১০টি প্রতীক হলো- আলমারি, কলস, ড্রেসিং টেবিল, পালকি, ফলের ঝুড়ি, মাইক, সেলাই মেশিন, সূর্যমুখী ফুল, হরিণ ও হেলিকপ্টার।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bditwork.com