• সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:২৩ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]

টাঙ্গাইলে রাতে ব্রিজে রডের বদলে বাঁশ দিয়ে ঢালাই

Reporter Name / ০ Time View
Update : সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলায় প্রায় এগারো কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুতে ব্যাপক অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি কোনো নিয়মকানুনের তোয়াক্কা না করে রাতের অন্ধকারে ব্রিজের নির্মাণকাজে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করে ঢালাইয়ের কাজ সম্পন্ন করেছে। স্থানীয় লোকজনের দীর্ঘদিনের যাতায়াতের দুর্ভোগ লাঘবের জন্য এই সেতুটি নির্মাণ করা হচ্ছিল, যার বাজেট ধরা হয়েছিল ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হলো, জনকল্যাণমূলক এই সরকারি প্রকল্পের কাজ শুরু থেকেই নানা অনিয়মের মধ্য দিয়ে এগোচ্ছিল বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় সচেতন বাসিন্দারা জানান যে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি দিনের বেলা দৃশ্যমান কোনো বড় অনিয়ম না করলেও রাতের নিস্তব্ধতার সুযোগ নিয়ে অত্যন্ত সুকৌশলে রডের বদলে বাঁশ ও বাঁশের কঞ্চি ব্যবহার করে ঢালাইয়ের কাজ চালিয়ে যায়। রাতের বেলা শ্রমিকদের দিয়ে গোপনে এই নিম্নমানের কাজ করানোর সময় এলাকাবাসীর সন্দেহ হলে তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরবর্তীতে তারা নির্মাণাধীন ব্রিজের ঢালাই ভেঙে ভেতরে বাঁশের উপস্থিতি দেখতে পান এবং সঙ্গে সঙ্গে তীব্র প্রতিবাদ জানান। এই ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ ও নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করায় সেতুটির স্থায়িত্ব এবং নিরাপত্তা নিয়ে চরম সংশয় ও ভয়ের সৃষ্টি হয়েছে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মনে।

হাতে গোনা কয়েকজন অসাধু ব্যক্তি ও ঠিকাদারের খামখেয়ালিপনার কারণে কোটি কোটি টাকার এই সরকারি প্রকল্পের বারোটা বাজছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তারা অভিযোগ করেন যে, যথাযথ তদারকি ও প্রকৌশলীদের নিয়মিত পরিদর্শনের অভাবের সুযোগ নিয়েই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি এ ধরনের দুর্নীতি করার সাহস পেয়েছে। সাধারণ মানুষের কঠোর পরিশ্রমের ট্যাক্সের টাকায় নির্মিত এই সেতু যদি সামান্য বৃষ্টি বা অতিরিক্ত ভারে ভেঙে পড়ে, তবে তার দায়ভার কে নেবে—এমন প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয় ভুক্তভোগীরা। জনস্বার্থের এই গুরুত্বপূর্ণ কাজে অনিয়ম প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এদিকে রাতের আঁধারে বাঁশ দিয়ে সেতু নির্মাণের এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। স্থানীয় সচেতন মহল এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী অবিলম্বে এই দুর্নীতির নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন। সেই সঙ্গে নিম্নমানের এই সেতুটি ভেঙে পুনরায় নতুন করে মানসম্মত উপায়ে নির্মাণের জোরালো দাবি তোলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও প্রকৌশলীরা বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলেই প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় জনসাধারণ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bditwork.com