আফগানিস্তান ক্রিকেট দলের তারকা ক্রিকেটার ও বিশ্বসেরা লেগ স্পিনার রশিদ খান সম্প্রতি জাতীয় দলের নেতৃত্ব হারানোর প্রক্রিয়া নিয়ে নিজের অসন্তোষ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন। ক্রিকেট বিশ্বে দারুণ সমাদৃত এই অলরাউন্ডার জানিয়েছেন, দলের অধিনায়কত্বে যে পরিবর্তন আসছে সে বিষয়ে তিনি আগে থেকেই কোনো ওয়াকিবহাল ছিলেন না। বোর্ডের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের আগাম আলোচনা বা ব্যক্তিগত বার্তা ছাড়াই সরাসরি গণমাধ্যমে প্রকাশিত আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমেই বিষয়টি তাঁর নজরে আসে।
ক্রিকেট বোর্ডের এমন কার্যপদ্ধতি একজন প্রতিষ্ঠিত ও সফল অধিনায়কের জন্য কতটা অসম্মানজনক হতে পারে, সেই প্রশ্নটিই যেন রশিদের বক্তব্যে ঘুরেফিরে এসেছে। বছরের পর বছর ধরে দলের ত্রাতা হিসেবে মাঠে অবদান রাখা এবং দলকে কঠিন পরিস্থিতি থেকে টেনে তোলা একজন নেতার ক্ষেত্রে এই ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে ন্যূনতম পেশাদারিত্ব আশা করাটাই স্বাভাবিক। তবে বোর্ডের তরফ থেকে প্রক্রিয়াটি যেভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে, তাতে মাঠের বাইরের ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
বিশ্বজুড়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোতে নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও আফগানিস্তানকে দারুণ সব জয় উপহার দিয়েছেন রশিদ খান। তাঁর নেতৃত্বে দল অনেক ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন করেছে, যা দেশের ক্রিকেটকে বিশ্বমঞ্চে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। এমন একজন পরীক্ষিত সেনাপতির সাথে বোর্ডের পক্ষ থেকে যথাযথ যোগাযোগের অভাব কেবল এই ক্রিকেটারকেই নয়, বরং তাঁর ভক্ত ও দেশের সচেতন ক্রীড়া অনুরাগীদেরও যথেষ্ট পরিমাণে ব্যথিত করেছে।
অধিনায়কত্ব হারানোর এই আকস্মিক ধাক্কা সত্ত্বেও রশিদ খান স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, দলের বৃহত্তর স্বার্থে এবং দেশের পতাকার সম্মান রক্ষার্থে তিনি একজন সাধারণ খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে সর্বোচ্চ নিবেদন দিতে প্রস্তুত। নেতৃত্বের আর্মব্যান্ড হাতবদল হলেও সতীর্থদের সাথে তাঁর বোঝাপড়া এবং দলের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতায় বিন্দুমাত্র ভাটা পড়বে না বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। ভবিষ্যতের ম্যাচগুলোতে একজন সিনিয়র ক্রিকেটার হিসেবে দলের তরুণদের পথ দেখানোর কাজে তিনি আগের মতোই নিরলসভাবে কাজ করে যাবেন।