তীব্র অর্থনৈতিক সংকট এবং দীর্ঘমেয়াদি মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার জাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে ক্যারিবীয় অঞ্চলের দ্বীপরাষ্ট্র কিউবায় ফের একবার বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। দেশটির মূল বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা বা গ্রিড সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়ার ফলে আকস্মিক ব্ল্যাকআউটের মুখে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। এই বিপর্যয় শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই রাজধানী হাভানাসহ দেশের প্রধান বড় শহরগুলোর লাখ লাখ নাগরিক চরম অন্ধকারে নিমজ্জিত হন। বিদ্যুৎ সরবরাহের এই হঠাৎ ধস জনজীবনকে পুরোপুরি স্থবির করে দিয়েছে এবং দেশটির ভঙ্গুর অর্থনীতিকে আরও গভীর সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
স্থানীয় জ্বালানি ও বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় গ্রিড সচল রাখার মতো পর্যাপ্ত জ্বালানি এবং যন্ত্রাংশের মারাত্মক অভাব রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে বিদেশ থেকে প্রয়োজনীয় খুচরা যন্ত্রাংশ বা জ্বালানি তেল আমদানি করতে পারছে না হাভানা। এর ফলে দেশের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো তাদের পূর্ণ সক্ষমতায় চলতে ব্যর্থ হচ্ছে এবং প্রায়শই পুরো সিস্টেমের ওপর অতিরিক্ত চাপের সৃষ্টি হচ্ছে। সাম্প্রতিক এই বিপর্যয়টি সেই কাঠামোগত দুর্বলতারই একটি অনিবার্য পরিণতি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিদ্যুৎ না থাকায় দেশের হাসপাতাল, পানি শোধনাগার এবং জরুরি পরিষেবাগুলোর কার্যক্রম টিকিয়ে রাখতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের। অনেক এলাকায় জেনারেটরের মাধ্যমে কোনোমতে জরুরি সেবা চালু রাখার চেষ্টা করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল। সাধারণ মানুষ খাবার সংরক্ষণ এবং দৈনন্দিন কাজকর্ম চালাতে গিয়ে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ছোটখাটো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো বিদ্যুৎহীনতার কারণে সাময়িকভাবে তাদের কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় কিউবার প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদরা গ্রিড পুনরায় সচল করার জন্য দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে জ্বালানি সংকটের স্থায়ী সমাধান না হলে এই ধরনের ব্ল্যাকআউট যেকোনো সময় আবারও ঘটে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে এই মানবিক সংকটে কিউবার পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হলেও রাজনৈতিক বৈরিতার কারণে তা পর্যাপ্ত হয়ে উঠছে না।