• শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:২৫ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]

‘খোদা আমাদের খাবার দাও’-ভিডিও ভাইরাল, বৃদ্ধ দম্পতির পাশে প্রশাসন

Reporter Name / ১৪ Time View
Update : বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনাহারে থাকা এক বয়োবৃদ্ধ দম্পতির কান্নার আকুতির ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়। ভিডিওটিতে দেখা যায়, শেরপুর সদর উপজেলার খুনুয়া চরপাড়া গ্রামের ৮৬ বছর বয়সী সাজু শেখ ও ৮০ বছর বয়সী নুরজাহান দম্পতি চরম দুর্দশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে নানা রোগবালাই এবং চরম দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করা এই দম্পতির হৃদয়বিদারক দৃশ্যটি মুহূর্তের মধ্যে নেটিজেনদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এর পরেই অসহায় এই বৃদ্ধ দম্পতির পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রায় ৭০ বছর আগে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া এই দম্পতি দীর্ঘদিন ধরে সাজু শেখের পৈতৃক ভিটায় বসবাস করে আসছেন। তাদের তিন ছেলে ও তিন মেয়ের মধ্যে মেয়েরা অনেক আগেই বিবাহিত এবং ছেলেরা নিজেদের সংসার ও জীবিকা নিয়ে ব্যস্ত। এর মধ্যে এক ছেলে করোনা মহামারীর সময়ে নিরুদ্দেশ হন এবং অন্য এক ছেলে ঢাকায় রিকশা চালিয়ে কোনোমতে জীবিকা নির্বাহ করেন। স্থানীয় পর্যায়ে দিনমজুরি করে যতটুকু সম্ভব বাবা-মায়ের খোঁজখবর রাখতেন ছোট ছেলে নুর ইসলাম, তবে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে নিজের সংসার চালানোই তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছিল। কয়েক বছর আগে স্ত্রীর মৃত্যুর পর থেকে আরও বেশি একা হয়ে পড়েন তিনি, অন্যদিকে নুরজাহানের কোমরের হাড় ভেঙে যাওয়ার পর থেকে তিনি পুরোপুরি শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন।

বয়সের ভারে ন্যুব্জ সাজু শেখ বধির হয়ে পড়লেও স্ত্রীর প্রতি গভীর ভালোবাসার টানে এক মুহূর্তের জন্যও তাকে ছেড়ে যাননি। প্রতিদিন সকালে স্ত্রীকে কোলে করে ঘরের বাইরে উঠানে এনে শুইয়ে দিতেন এবং ইশারায় তার প্রয়োজন মেটাতেন। অসুস্থ স্ত্রীর সেবা করতে করতে এই বৃদ্ধ নিজেই কঙ্কালসার হয়ে পড়েছিলেন এবং খাবার না পেয়ে আল্লাহর কাছে আকুতি জানিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন। স্থানীয় এক কনটেন্ট ক্রিয়েটর এই দৃশ্য ধারণ করে ফেসবুকে প্রকাশ করলে তা দ্রুত ভাইরাল হয় এবং প্রশাসনের নজরে আসে।

ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন অবিলম্বে উদ্যোগী হয়ে ওই দম্পতিকে শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন এবং তাদের চিকিৎসার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নেন। একই সঙ্গে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা হাসপাতালে গিয়ে তাদের খোঁজখবর নেন এবং অসুস্থ বৃদ্ধার জন্য একটি হুইলচেয়ার উপহার দেন। পাশাপাশি, স্থানীয় বিএনপি নেতা, জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রতিনিধি দল এবং ‘রক্ত সৈনিক বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন’সহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন তাদের খাদ্য ও নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদান করে।

প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে এই দম্পতির স্থায়ী পুনর্বাসনের জোরালো আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন যে, এই দম্পতির বর্তমান ঘরবাড়ির অবস্থা অত্যন্ত করুণ হওয়ায় তাদের জন্য দ্রুত একটি নতুন ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হবে। এছাড়া বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকেও তাদের নিয়মিত খোঁজখবর রাখা হচ্ছে এবং চিকিৎসাসেবা যেন অব্যাহত থাকে সেই দাবি জানানো হয়েছে। সমাজের সর্বস্তরের মানুষের এই সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব অসহায় বৃদ্ধ দম্পতির জীবনে নতুন আশার আলো নিয়ে এসেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bditwork.com