• বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:০৫ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]

সুপ্রিম কোর্টের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ আমলে নিচ্ছি না: চিফ প্রসিকিউটর

Reporter Name / ২২ Time View
Update : বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার রায় ঘোষণা করেছে। এই রায়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত শীর্ষ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই ঐতিহাসিক রায় দেন। প্যানেলের অপর দুই সদস্য ছিলেন বিচারক মোه‌ মঞ্জুরুল বাছিদ এবং বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। রায় ঘোষণার পরপরই আদালতের বিচারিক কার্যক্রম এবং এর পার্শ্ববর্তী এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়।

এই মামলার রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্যান্য আসামিরা হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, নিষিদ্ধ ঘোষিত যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান, এবং নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। বিচারিক প্রক্রিয়ায় এই সাত আসামির সবাই পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে। এছাড়া রায়ে আসামিদের প্রত্যেকের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির অর্ধেক অংশ বা বাজেয়াপ্ত করার কঠোর নির্দেশও প্রদান করেছে আদালত। প্রসিকিউশন পক্ষের তথ্য অনুযায়ী, আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত চারটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগের অধিকাংশ অত্যন্ত নিখুঁতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল এই চরম দণ্ডের সিদ্ধান্ত নেন।

গত বছরের জুলাই ও আগস্ট মাসে সংঘটিত ছাত্র-জনতার আন্দোলন কঠোরভাবে দমন করার অভিযোগে এই বিচারকার্য পরিচালিত হয়। প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আদালতে অভিযোগ করা হয়েছিল যে, তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের এই শীর্ষ নেতারা আন্দোলন দমনে নানা ধরনের উস্কানিমূলক নির্দেশনা, বক্তব্য ও ঘৃণ্য কর্মকাণ্ডে সরাসরি জড়িত ছিলেন। বিশেষ করে ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে ইন্টারনেট সেবা ব্যাহত করা এবং দলীয় ক্যাডারদের আন্দোলনকারীদের ওপর চড়াও হওয়ার নির্দেশ দেওয়ার জোরালো তথ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করা হয়। এছাড়া সাদ্দাম হোসেনের সঙ্গে একটি ফোনালাপ এবং বিভিন্ন সময়ে দেওয়া সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্যও ট্রাইব্যুনালে অপরাধের সাক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হয়। জুলাই অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এটি ছিল সপ্তম কোনো মামলার রায়।

এদিকে রায় ঘোষণার ঠিক পরপরই সুপ্রিম কোর্টের প্রধান গেটের প্রবেশপথের বাইরে একটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে, যা নিয়ে কিছুটা চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। তবে এই বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে খুব বেশি গুরুত্ব দিতে নারাজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, এই ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাকে তারা আইনগতভাবে আমলে নিচ্ছেন না। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, আদালতের ভেতরে এবং বাইরে সবসময়ই কঠোর ও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা বলবৎ রয়েছে, যা বিচারপ্রক্রিয়াকে কোনোভাবেই প্রভাবিত করতে পারবে না। রায়ের পর সামগ্রিক সন্তোষ প্রকাশ করে প্রসিকিউশন পক্ষ একে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bditwork.com