• শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:২৮ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]

১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ নিয়ে ফেসবুক লাইভে আসবেন আসিফ মাহমুদ

Reporter Name / ২ Time View
Update : সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, নিয়োগ ও বদলিতে কোটি কোটি টাকা বাণিজ্যের পাশাপাশি বিশাল অঙ্কের অর্থ বিদেশে পাচারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এসব অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান শুরু করার পর থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে সিটি করপোরেশনের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে বড় অংকের ঘুসের বিনিময়ে লোক নিয়োগের চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছে তদন্তকারী সংস্থাটি। এছাড়া তার পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের বিরুদ্ধেও ক্ষমতার অপব্যবহার করে সিন্ডিকেট পরিচালনার মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগ তুলেছে দুদক। এসব অভিযোগ ওঠার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে জনমনে নানামুখী আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় বইছে।

দুদকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ থেকে শুরু করে বিভিন্ন জেলা প্রশাসক ও সরকারি দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তা পদে পদায়নের ক্ষেত্রে ব্যাপক আর্থিক লেনদেন হয়েছে। স্থানীয় সরকার এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালনকালে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প, সেতু নির্মাণ এবং পানি শোধনাগার প্রকল্পের মতো বড় বড় উদ্যোগে কোটি কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া দুবাই, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া ও সুইজারল্যান্ডের মতো দেশগুলোতে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা পাচার করে সেখানে বিলাসবহুল সম্পত্তি কেনা এবং ব্যবসায় বিনিয়োগের সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়ার দাবি করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। এমনকি রাষ্ট্রীয় অর্থের অপব্যবহার করে হেলিকপ্টার ভ্রমণ এবং পাঁচ তারকা হোটেলে নিয়মিত যাতায়াত করার মতো বিষয়গুলোও অনুসন্ধানের আওতায় আনা হয়েছে। এসব অভিযোগের পরিধি বিস্তৃত হওয়ায় চলমান অনুসন্ধানের সঙ্গে নতুন অভিযোগগুলোও যুক্ত করা হয়েছে বলে দুদক সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।

তবে নিজের বিরুদ্ধে আনীত যাবতীয় অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির এই শীর্ষ নেতা। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই দুদকের পক্ষ থেকে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা প্রচার করে তার বিরুদ্ধে এক ধরনের মিডিয়া ট্রায়াল চালানো হয়েছে। এর প্রতিবাদে তিনি এর আগে আইনি নোটিশ পাঠিয়ে দুদককে বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছিলেন এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তা না হলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন। নিজের বিরুদ্ধে চলা এই অপপ্রচারের জবাব দিতে এবং প্রকৃত সত্য তুলে ধরতে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি এসে বিস্তারিত বক্তব্য দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দলের মিডিয়া সেল থেকে জানানো হয়েছে যে, নির্ধারিত দিনে ফেসবুক লাইভে এসে তিনি এসব দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করবেন এবং নানা প্রশ্নের জবাব দেবেন।

সাবেক এই উপদেষ্টার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির এই পাহাড়সমান অভিযোগ এবং তার আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। একদিকে দুর্নীতি দমন কমিশন তাদের অনুসন্ধান প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে এবং নতুন নতুন অভিযোগ সংযুক্ত করে তদন্তের পরিধি বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে অভিযুক্ত নেতা তা দৃঢ়ভাবে প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছেন। এই পুরো ঘটনাটি নিয়ে জনমনে যেমন নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, তেমনি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আগামী দিনে দুদকের এই অনুসন্ধান কোন দিকে মোড় নেয় এবং আইনি লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কী ফলাফল আসে, সেটি এখন দেখার বিষয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bditwork.com