জাতীয় ডেস্ক: বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া লঘুচাপটি আরও ঘনীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এ রূপ নিয়েছে এবং এটি ক্রমেই আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই ঝড়টি আরও শক্তি সঞ্চয় করে ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ উপকূলের দিকে অগ্রসর হতে পারে। বঙ্গোপসাগরের এই পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশের সামুদ্রিক আবহাওয়া নিয়ে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার জেলে ও নৌযানগুলোকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টি পূর্ব মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিম মধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থান করে পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে চলেছে। ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় সাগর প্রচণ্ড উত্তাল রয়েছে এবং এর প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলে আবহাওয়ার অবনতি ঘটতে শুরু করেছে। ঝড়ের গতিপ্রকৃতি ও তীব্রতা পর্যবেক্ষণ করে দেশের প্রধান চার সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রাকে দুই নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রত্যক্ষ প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আগামী কয়েক দিন ধরে বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। বিশেষ করে উপকূলীয় বিভাগগুলোতে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টির প্রবণতা বাড়তে পারে। পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও মেঘের সঞ্চার ও বৃষ্টির বিস্তার ঘটতে পারে বলে আবহাওয়াবিদরা ধারণা করছেন। এর ফলে চলমান ভ্যাপসা গরম কিছুটা কমে স্বস্তি ফিরতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

এদিকে ঘূর্ণিঝড় ও বৃষ্টির পূর্বাভাসের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন এলাকায় মৃদু তাপপ্রবাহের উপস্থিতিও লক্ষ করা গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে তাপমাত্রা বেশ কিছুটা উর্ধমুখী ছিল এবং কোথাও কোথাও তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে রেকর্ড করা হয়েছে। তবে বৃষ্টির প্রবণতা বাড়লে এই তাপমাত্রা কিছুটা হ্রাস পেতে পারে বলে আবহাওয়া অধিদপ্তরের দীর্ঘমেয়াদী পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।