জাতীয় ডেস্ক: খাগড়াছড়িতে পর্যটনকেন্দ্র সাজেকে যাতায়াতের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে তীব্র আন্দোলন শুরু হয়েছে। সম্প্রতি স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ী, পরিবহন শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার কয়েক শ মানুষ একত্রিত হয়ে একটি বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। খাগড়াছড়ি গেট এলাকা থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শাপলা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। সাজেক রুট খুলে দেওয়ার এই জোরালো দাবিতে অংশ নেওয়া সাধারণ মানুষ দ্রুত পরিস্থিতির স্বাভাবিক উন্নতির দাবি জানান।

প্রতিবাদ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন পার্বত্য যানবাহন সমিতির সভাপতি আইয়ূশ চাকমা। এছাড়া সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন যানবাহন সমিতির নেতা জসিম উদ্দিন, উজ্জ্বল দে, মোহাম্মদ আসাদ মাসুম ও ওমর ফারুক কুসুমসহ অন্যান্য স্থানীয় প্রতিনিধিরা। বক্তারা তাদের বক্তব্যে পাহাড়ে চলমান সংকটের নানা দিক তুলে ধরে সাজেক যোগাযোগ স্বাভাবিক করার ওপর জোর দেন। পর্যটন খাতের ওপর নির্ভরশীল মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয় এই সমাবেশ থেকে।

বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সাজেকে পর্যটকদের যাতায়াত দীর্ঘসময় ধরে বন্ধ থাকায় সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। পরিবহন শ্রমিকেরা কাজ হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন এবং পুরো অঞ্চলের অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়েছে। এই চরম অর্থনৈতিক সংকট থেকে মুক্তি পেতে পর্যটকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করে অবিলম্বে সাজেক ভ্রমণের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা। একই সঙ্গে পাহাড়ে সব ধরনের চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমনের জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনের নেতারা। সাজেক রুটে চলাচলের ওপর আরোপিত অবরোধ প্রত্যাহারের জন্য প্রশাসনের কাছে ৪৮ ঘণ্টার একটি চূড়ান্ত সময়সীমা বা আলটিমেটাম বেঁধে দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত এই সময়ের মধ্যে যদি তাঁদের দাবি মেনে নেওয়া না হয়, তবে সাজেক ও খাগড়াছড়ির পর্যটন ও পরিবহন খাতের সঙ্গে জড়িতরা আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটবেন বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।