জাতীয় ডেস্ক: রংপুরের পীরগাছা উপজেলার চন্ডিপুরে একটি জ্ঞানভিত্তিক, মানবিক ও আলোকিত সমাজ গঠনের প্রত্যয় নিয়ে সম্প্রতি চালু হয়েছে ‘আলোকিত নাপাইচন্ডি পাঠাগার’। স্থানীয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা, জ্ঞানচর্চায় তাদের উদ্বুদ্ধ করা এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে একটি সচেতন প্রজন্ম তৈরি করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। উদ্বোধনী দিনে বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয় এবং স্থানীয় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় উৎসাহ জোগাতে তাদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়। পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।

উল্লেখ্য যে, ‘আলোকিত নাপাইচন্ডি’ নামক সংগঠনটি ২০২০ সাল থেকেই বিভিন্ন মানবিক ও সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই সংগঠনটি এলাকার দরিদ্র, অসহায়, অসুস্থ এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা চালিয়েছে। দুর্যোগের সময় খাদ্য সহায়তা প্রদান, ঈদ উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নিতে উপহার বিতরণ, চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা, শীতবস্ত্র বিতরণ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মতো নানা কল্যাণমুখী কাজ করে আসছে তারা। মানুষের জীবনমানের উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষার প্রসার ও জ্ঞানচর্চাকে এগিয়ে নিতেই মূলত তারা এই পাঠাগার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

সংগঠনটির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানা গেছে, সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজের পরিধি আরও বাড়াতে তারা একটি নিজস্ব ব্লাড ব্যাংক তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবা ও সামাজিক কাজে সম্পৃক্ত করার জন্য একটি ‘স্টুডেন্ট উইং’ গঠনের পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এই বহুমুখী উদ্যোগগুলোর মাধ্যমে স্থানীয় তরুণ প্রজন্মের মাঝে মানবিক মূল্যবোধ, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং নিঃস্বার্থভাবে কাজ করার মানসিকতা বিকশিত হবে। তাদের বিশ্বাস, এই পাঠাগারটি কেবল বই পড়ার স্থান হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং এটি এলাকার তরুণদের জ্ঞানচর্চা ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চন্ডিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নারগিস আরা বেগম, কহিনুর বেগম উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলমগীর হোসেন প্রামাণিক এবং রফিকুল ইসলাম গার্লস হাইস্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. খলিলুর রহমান। এছাড়াও আলোকিত নাপাইচন্ডি পাঠাগারের সভাপতি ও যমুনা ব্যাংকের কর্মকর্তা কে এম হাবিবুর রহমান, পীরগাছা উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান সুইটি, স্থানীয় ইউপি সদস্য কাজল এবং গঙ্গাচড়ার উপসহকারী পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিমসহ এলাকার অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে কুইজ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে স্কুল ব্যাগ, ক্যালকুলেটর ও ছাতা তুলে দেওয়া হয়। একইসঙ্গে প্রায় দেড়শ শিক্ষার্থীর মাঝে পেনসিল বক্স উপহার হিসেবে বিতরণ করা হয়, যা তাদের পড়াশোনায় আরও মনোযোগী হতে সাহায্য করবে। আয়োজকদের দৃঢ় বিশ্বাস, সমাজের উন্নয়নে ছোট পরিসরে নেওয়া এসব পদক্ষেপই একদিন বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে। বইয়ের আলোয় মানুষের মনকে আলোকিত করে আগামী প্রজন্মকে জ্ঞান ও মানবিকতায় সমৃদ্ধ করতে তারা ভবিষ্যতেও এমন জনকল্যাণমূলক কাজ চালিয়ে যেতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।