জাতীয় ডেস্ক: শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণের জন্য পূর্বে নির্ধারিত স্থান পরিবর্তন না করে বরং সেখানেই তা বাস্তবায়নের জোরালো দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ। সম্প্রতি জেলা শহরের অদূরে শরীয়তপুর-ঢাকা মহাসড়কের সংলগ্ন কোটাপাড়া ব্রিজ এলাকায় আয়োজিত এক মানববন্ধনে এই দাবি উত্থাপন করা হয়। ‘শরীয়তপুর জেলার সর্বস্তরের জনগণ’ ব্যানারে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। শান্তিপূর্ণ এই মানববন্ধনে অংশ নেওয়া বিক্ষোভকারীরা নির্ধারিত স্থানেই ক্যাম্পাস গড়ার পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং সরকারের নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

উদ্যোক্তারা ও স্থানীয় প্রতিনিধিরা জানান, ২০২৩ সালে শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আনুষ্ঠানিক আইন পাস হওয়ার পর জেলা সদরের কাছাকাছি শরীয়তপুর-ঢাকা মহাসড়কের পাশে জমি নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি নতুন উপাচার্য নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহম্মেদ অপু সেই নির্ধারিত স্থান বাদ দেওয়ার ঘোষণা দেন। তিনি এর পরিবর্তে ডামুড্যা উপজেলার একটি ইউনিয়নের চরের জমিতে বিশ্ববিদ্যালয়টির নতুন স্থান নির্ধারণের ঘোষণা দিলে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়।

বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ডামুড্যার প্রস্তাবিত স্থানটি শরীয়তপুর জেলার একটি প্রান্তসীমায় অবস্থিত হওয়ায় সেখানে যাতায়াত করা অত্যন্ত দুরূহ হবে। এমন স্থানে ক্যাম্পাস স্থাপন করা হলে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে প্রতিদিন যাতায়াতকারী সাধারণ শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হবে। এছাড়া সেখানে শিক্ষার্থীদের আধুনিক আবাসন ব্যবস্থা, চিকিৎসা সুবিধা, খণ্ডকালীন চাকরি বা টিউশনের সুযোগ এবং অন্যান্য মৌলিক নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করাও প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

তারা আরও উল্লেখ করেন যে, এই উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি নির্দিষ্ট কোনো জনপদের জন্য নয়, বরং পুরো শরীয়তপুরবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ও অধিকার। জেলা সদর কিংবা তার কাছাকাছি অঞ্চলে বিশ্ববিদ্যালয়টি নির্মিত হলে যোগাযোগের ক্ষেত্রে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে এবং শিক্ষার্থীরা সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা সহজে ভোগ করতে পারবেন। পরিশেষে, জনস্বার্থ বিবেচনা করে স্থান পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত বাতিল করতে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানানো হয় এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অহিংস আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।