জাতীয় ডেস্ক: গ্রামবাংলার চেনা পরিচিত দৃশ্য ফুল-পাখি, লতাপাতা এবং নদীমাতৃক বাংলার রূপ ফুটিয়ে তোলার পাশাপাশি ক্যানসার নিয়ে জনসচেতনতা তৈরির এক অভিনব প্রয়াস দেখা গেছে বাগেরহাটের রামপালে। ঐতিহ্যবাহী এই লোকশিল্পের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যবার্ত্তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। রিকশার রঙিন পাতে সাধারণ বিনোদনের উপাদানের পরিবর্তে স্বাস্থ্য বিষয়ক নানা স্লোগান ও তথ্য যুক্ত করায় এটি স্থানীয় পর্যায়ে দারুণ কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে।

এই বিশেষ রিকশাগুলোর বডি বা পাতের দিকে তাকালে দেখা যায়, ঐতিহ্যবাহী নকশার ঠিক মাঝখানে বড় ও আকর্ষণীয় অক্ষরে লেখা রয়েছে সব টিউমার ক্যানসার নয়। এমন আরও কিছু শিক্ষণীয় বার্তা ও চিকিৎসাসংক্রান্ত সঠিক তথ্য এই রিকশার রঙে রূপায়ন করা হয়েছে। মূলত সাধারণ মানুষ যাতে এ ধরনের মারাত্মক রোগ সম্পর্কে ভুল ধারণা দূর করতে পারে এবং সঠিক সময়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়, সেই লক্ষ্যেই এমন ভিজ্যুয়াল মাধ্যম বেছে নেওয়া হয়েছে।

গ্রামীণ জনপদের মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবার বার্তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য রিকশার চেয়ে জনপ্রিয় ও কার্যকর মাধ্যম খুব কমই রয়েছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের অলিতে-গলিতে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের যাতায়াত রিকশায় ঘটে থাকে, যা এই ধরনের সচেতনতামূলক প্রচারণার জন্য অত্যন্ত উপযোগী। সাধারণ মানুষ যখন রিকশায় চড়েন কিংবা পথচলতি অবস্থায় এই রঙিন চিত্রগুলো দেখেন, তখন কৌতূহলবশত হলেও লেখাগুলো তাদের নজর কাড়ে এবং মনে দাগ কাটে।

এ ধরনের উদ্ভাবনী উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। তাদের মতে, গতানুগতিক লিফলেট বা পোস্টার প্রচারের চেয়ে জনবহুল সড়কে চলাচলকারী রিকশার মাধ্যমে প্রচার অনেক বেশি ফলপ্রসূ হতে পারে। এই প্রচারণার ফলে রামপালের সাধারণ মানুষের মাঝে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে এবং জটিল রোগ নিয়ে প্রচলিত নানা রকম অন্ধবিশ্বাস বা ভীতি দূর করতে এটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।