জাতীয় ডেস্ক: জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উদ্‌যাপনের একটি সরকারি অনুষ্ঠান চলাকালে আকস্মিক এক বাল্যবিবাহের তথ্য এসে পৌঁছায় উপজেলা প্রশাসনের কাছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা গোপন সংবাদের মাধ্যমে জানতে পারেন যে, স্থানীয় এক কিশোরীকে জোরপূর্বক বিয়ের পিঁড়িতে বসানোর প্রস্তুতি চলছে। এমন সংবেদনশীল ও জরুরি পরিস্থিতিতে প্রশাসন বসে না থেকে তাৎক্ষণিক আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এই বাল্যবিবাহের শিকার হতে চলা মেয়েটি স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণীতে পড়াশোনা করে এবং তার বয়স মাত্র চৌদ্দ বছর। অত্যন্ত অস্বচ্ছল পরিবারের এই কিশোরীর পারিবারিক সংকট বেশ গভীর, কারণ তার বাবা পেশায় একজন সাধারণ দিনমজুর এবং মা দীর্ঘদিন ধরে মানসিকভাবে অসুস্থ। এই অসহায় অবস্থার সুযোগ নিয়েই মূলত অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েটিকে গোপনে বিয়ে দেওয়ার আয়োজন করা হয়েছিল।

খবর পাওয়া মাত্রই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে সরাসরি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। প্রশাসনের এই দ্রুত পদক্ষেপে এলাকায় তাৎক্ষণিকভাবে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং আয়োজকরা হতভম্ব হয়ে পড়েন। বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন অনুযায়ী অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের বিয়ে সম্পূর্ণ অবৈধ হওয়ায় ঘটনাস্থলে পৌঁছেই প্রশাসন এই বাল্যবিবাহ বন্ধের জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

সরকার ও স্থানীয় প্রশাসন বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক ব্যাধি রোধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে আসছে। এ ধরনের আকস্মিক অভিযان ও পদক্ষেপ সমাজে একটি কঠোর বার্তা দেয় যে, কন্যাশিশুদের অধিকার রক্ষায় এবং তাদের বাল্যবিয়ের হাত থেকে বাঁচাতে প্রশাসন সবসময় তৎপর রয়েছে। এই ঘটনার পর স্থানীয় সচেতন মহল প্রশাসনের এমন দায়িত্বশীল ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেছে।