জাতীয় ডেস্ক: চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র পারকি সমুদ্রসৈকত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে দখল করে রাখা বিপুল পরিমাণ সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার করা হয়েছে। সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসনের পরিচালিত একটি বিশেষ উচ্ছেদ অভিযানে ২৪ একর খাসজমি পুনরুদ্বার করা হয়। সরকারি এই জমি উদ্ধারের পর সেখানে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাইনবোর্ড টাঙিয়ে সরকারি মালিকানা নিশ্চিত করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় দীর্ঘদিন ধরে এই বিশাল খাসজমি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে সেখানে অবৈধভাবে মাছের প্রজেক্ট বা চাষাবাদ চালিয়ে আসছিলেন স্থানীয় এক ব্যক্তি।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত ২৮ সেপ্টেম্বর আনোয়ারা উপজেলার সহকারী কমিশনার ভূমি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবু জাফর মজুমダরের নেতৃত্বে এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়। দীর্ঘদিন ধরে জনসাধারণের চলাচলের পথ ও সরকারি সম্পত্তি জবরদখল করে রাখার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়। অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে সমস্ত অবৈধ স্থাপনা ও দখলদারিত্ব উচ্ছেদ করে পুরো এলাকাটি সরকারের নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। সরকারি এই সম্পত্তি উদ্ধারের ফলে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহলে স্বস্তি নেমে এসেছে।
উদ্ধারকৃত এই বিশাল জমিতে পর্যটকদের সুবিধার্থে একটি আধুনিক ও মানসম্মত পার্কিং জোন গড়ে তোলার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। আনোয়ারার এই প্রধান সমুদ্রসৈকতে ছুটির দিনগুলোতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার পর্যটক ও দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে থাকে। কিন্তু পর্যাপ্ত জায়গার অভাবে এতদিন পর্যটকদের যানবাহন পার্কিং করতে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হতো। নতুন এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দর্শনার্থীদের দীর্ঘদিনের যানজট ও পার্কিং সংকটের স্থায়ী সমাধান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে প্রশাসনের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও পর্যটন ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, উদ্ধার করা জমিতে পরিকল্পিত পার্কিং ব্যবস্থা চালু হলে সৈকতের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় অনেক শৃঙ্খলা ফিরে আসবে এবং পর্যটন খাতের বিকাশ ত্বরান্বিত হবে। তবে সাধারণ মানুষের দাবি, এই খাসজমি যেন পরবর্তীতে পুনরায় কোনো প্রভাবশালী মহলের হাতে বেদখল না হয়ে যায়। এই বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত মনিটরিং ও কঠোর নজরদারি বজায় রাখার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।