শিক্ষা ডেস্ক: চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) একটি নাটকীয় পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে দপ্তরে প্রবেশ করেছেন নতুন উপাচার্য। পূর্বঘোষিত শাটডাউন কর্মসূচির কারণে যখন পুরো ক্যাম্পাসে এক ধরনের থমথমে অবস্থা বিরাজ করছিল, ঠিক সেই মুহূর্তে তিনি এই ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ নেন। শিক্ষক পরিচয় দিয়ে অত্যন্ত গোপনীয়তা ও কৌশলে তিনি প্রথমে ক্যাম্পাসের মূল ফটক অতিক্রম করেন এবং পরবর্তীতে ভেতরের পরিস্থিতি নিজের অনুকূলে আনার চেষ্টা করেন।
ক্যাম্পাসে প্রবেশ করার পর উপাচার্য ভবনটি তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পান। এই জটিল পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য তিনি স্থানীয় ছাত্রদল নেতাকর্মীদের সাহায্য নেন। তাদের সরাসরি উপস্থিতিতে এবং প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় উপাচার্য ভবনের প্রধান ফটকের তালা ভেঙে ফেলা হয়। এরপর ছাত্রদল নেতাদের সাথে নিয়েই তিনি অত্যন্ত নাটকীয়ভাবে নিজের নির্ধারিত কার্যালয়ে প্রবেশ করেন এবং দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করার চেষ্টা চালান।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নিয়োগ ও প্রশাসনিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পাসে অসন্তোষ ও আন্দোলন চলছে। এর অংশ হিসেবেই আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপাচার্য ভবনসহ বিভিন্ন দপ্তরে তালা ঝুলিয়ে শাটডাউন কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন। এমতাবস্থায় নতুন উপাচার্য যোগদানের প্রথম দিনেই ঐতিহ্যবাহী পন্থার বাইরে গিয়ে রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীদের নিয়ে শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে অফিস কক্ষে প্রবেশ করায় ক্যাম্পজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
সাধারণ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের একটি বড় অংশ এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেছেন এবং একে প্রশাসনের নিরপেক্ষতার পরিপন্থী বলে অভিহিত করেছেন। তাদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী হিসেবে প্রশাসনিক দায়িত্ব নিতে গিয়ে ছাত্রসংগঠনের সাহায্য নেওয়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বায়ত্তশাসন ও মর্যাদার জন্য শুভ নয়। এই ঘটনার পর চুয়েটের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।