আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ সম্মাননা নোবেল পুরস্কারের বিজয়ী নির্বাচন প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত দীর্ঘ ও সুশৃঙ্খল। সাধারণত একটি পুরস্কারের পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে প্রায় ষোলো মাস সময় লেগে যায়। এই পুরো কার্যক্রমটি শুরু হয় পুরস্কার বিতরণের আগের বছরের সেপ্টেম্বর মাসে, যখন সংশ্লিষ্ট নোবেল কমিটিগুলোর পক্ষ থেকে বিশ্বজুড়ে নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির কাছে গোপনীয় আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়।

আমন্ত্রণ পাওয়ার পর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের স্বনামধন্য গবেষক, অধ্যাপক, আইনপ্রণেতা এবং সাবেক নোবেলজয়ীরা তাদের প্রস্তাবিত প্রার্থীর নাম জমা দেন। আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যে এই মনোনয়নগুলো জমা দেওয়ার কঠোর সময়সীমা নির্ধারিত থাকে। এরপর শুরু হয় জমাকৃত নামগুলোর ওপর দীর্ঘ যাচাই-বাছাই ও মূল্যায়ন পর্ব, যা চলে সংশ্লিষ্ট বছরের বসন্তকাল পর্যন্ত।

বসন্ত ও গ্রীষ্মকালজুড়ে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত নোবেল কমিটিগুলো প্রার্থীদের গবেষণাকর্ম ও অবদান নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করে। তাদের এই বিশদ মূল্যায়নের ওপর ভিত্তি করে চূড়ান্ত সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রস্তুত করা হয় এবং গোপন ভোটাভুটির মাধ্যমে বিজয়ীদের নাম চূড়ান্ত করা হয়। সাধারণত অক্টোবর মাসের শুরুর দিকে বিজয়ী বা বিজয়ীদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ববাসীর সামনে প্রকাশ করা হয়।

ঘোষণার পর দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ওই বছরের ১০ ডিসেম্বর আলফ্রেড নোবেলের প্রয়াণ দিবসে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। স্টকহোম ও অসলোতে আয়োজিত বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিজয়ীদের হাতে স্বর্ণপদক, প্রশংসাপত্র এবং সম্মানজনক অর্থমূল্য তুলে দেওয়া হয়, যা বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞান, সাহিত্য ও শান্তির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হয়।