স্বাস্থ্য ডেস্ক: দেশের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করতে আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে দেশব্যাপী একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিবার পরিকল্পনা ক্যাম্পেইন শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন সম্প্রতি এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা জাতির সামনে তুলে ধরেন। মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ওই বৈঠকে তিনি জানান যে, এই বিশেষ কর্মসূচিটি সরাসরি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করবেন। সরকারের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো তৃণমূল পর্যায়ে পরিবার পরিকল্পনা সেবা আরও কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়া এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই বছরব্যাপী কর্মসূচি আগামী বছরের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে অব্যাহত থাকবে। এই দীর্ঘ সময়ে সারা দেশের প্রতিটি প্রান্তে নিয়মিতভাবে জন্মনিরোধক সামগ্রী সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে, যাতে সাধারণ মানুষ সহজে এগুলো সংগ্রহ করতে পারেন। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাঠকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সেবা প্রদান করবেন। সরকারের নীতিনির্ধারকদের বিশ্বাস, এই উদ্যোগের ফলে দেশের পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমে গতি আসবে এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

সংবাদ ব্রিফিংয়ে বর্তমান ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়েও বিস্তারিত কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্টভাবে জানান যে, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় সরকারি হাসপাতালগুলোতে সব ধরনের প্রস্তুতি ও পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত স্যালাইন ও অন্যান্য ওষুধপত্র সরবরাহ করা হচ্ছে এবং নির্ধারিত চিকিৎসা প্রোটোকল কঠোরভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে। সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য বিভাগ শুরু থেকেই আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং পরিস্থিতি পুরোপুরি সরকারের পর্যবেক্ষণে রয়েছে।

দেশের ক্যানসার চিকিৎসাব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও সাধারণ মানুষের নাগালে নিয়ে আসতে বড় ধরনের কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, চলতি অর্থবছরের মধ্যেই চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য করতে ১৭টি অত্যাধুনিক রেডিওথেরাপি মেশিন ক্রয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে স্থাপন করা হবে ছয়টি মেশিন এবং বাকি ১১টি মেশিন পাঠানো হবে ঢাকার বাইরের বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে। এছাড়া, ক্যানসার রোগীদের উন্নত ও নির্ভুল অস্ত্রোপচারের সুবিধা দিতে অচিরেই পাঁচটি রোবটিক সার্জারি মেশিন কেনার পরিকল্পনাও হাতে নিয়েছে বর্তমান সরকার।