বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের জন্য প্রস্তুত করা একই মঞ্চে পরে নৃত্যানুষ্ঠানের আয়োজন করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার সুন্দরকাঠী মোল্লা বাজারে স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানের একটি ভিডিও ইন্টারনেটে ভাইরাল হলে বিভিন্ন মহলে নিন্দার ঝড় ওঠে। পবিত্র দোয়া মাহফিলের পরপরই একই স্থানে এমন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার বিষয়টি অনেকেই ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি অবমাননা হিসেবে দেখছেন।

অনুষ্ঠানটির আয়োজক সূত্রে জানা যায়, রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমের শপথগ্রহণ এবং রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বভার গ্রহণ উপলক্ষে দুই দিনব্যাপী এই কর্মসূচি নির্ধারণ করা হয়েছিল। প্রথমদিনের কর্মসূচি অনুযায়ী দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। অভিযোগ রয়েছে যে, দোয়া শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে একই মঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হয় এবং সেখানে নৃত্য পরিবেশন করা হয়। এ সময় মিলাদ মাহফিলের জন্য তৈরি করা পবিত্র কোরআন শরিফের ছবিসংবলিত ব্যানারটি মঞ্চের পেছনে সশরীরে টাঙানো ছিল।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই দৃশ্য ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। অনুষ্ঠানটির মূল আয়োজক এবং দুধল ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য শাহিন মোল্লা জানান যে, তিনি এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়েই এই দুই দিনব্যাপী উৎসবের আয়োজন করেছিলেন। তবে তিনি বিএনপির কোনো পদে আসীন নন বলে দাবি করেন এবং জানান যে এই অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য স্থানীয় বিএনপি কিংবা উপজেলা পর্যায়ের কোনো নেতার কাছ থেকেও কোনো ধরনের পূর্বানুমতি নেওয়া হয়নি।

ঘটনার পর দুধল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোড. মকবুল খান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, ইউপি সদস্য শাহিন মোল্লা তাদের দলের কোনো পদে তো নেই-ই, এমনকি তিনি দলের প্রাথমিক সদস্যপদও কখনো রাখেননি। এই অনভিপ্রেত ঘটনার প্রতিবাদে ইউনিয়ন বিএনপির পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে স্থানীয় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আদিল হোসেন জানিয়েছেন যে, রাষ্ট্রপতির নাম ব্যবহার করে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের জন্য থানা থেকেও কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি এবং ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে অনুষ্ঠানটি বন্ধ করার নির্দেশ দেয়।