বাজারে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজির সংকট ও অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রির নানা অভিযোগের মধ্যেই রান্নার এই জ্বালানিটির দাম আরও এক দফা বাড়ানো হয়েছে। সাধারণ ভোক্তাদের ওপর বাড়তি খরচের চাপ বাড়িয়ে বেসরকারি খাতের ১২ কেজি ওজনের প্রতিটি সিলিন্ডারের দাম এক লাফে ২৫২ টাকা বাড়ানো হয়েছে। দেশের বাজারে জ্বালানি পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন বা বিইআরসি এই নতুন মূল্য নির্ধারণ করেছে।

নতুন এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের বাজারে এতদিন ১২ কেজির একটি এলপিজি সিলিন্ডার ১ হাজার ৫৮৫ টাকায় বিক্রি হলেও এখন থেকে এর জন্য ভোক্তাদের গুণতে হবে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা। নির্ধারিত এই নতুন দর সম্প্রতি সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর করা হয়েছে বলে বিইআরসির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। আমদানিনির্ভর এই জ্বালানি পণ্যটির মূল্যবৃদ্ধির ফলে দেশের গৃহস্থালি রান্নাবান্না থেকে শুরু করে বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে মাসিক খরচ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাবে।

দাম বাড়ানোর এই নতুন ঘোষণা দিয়ে বিইআরসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই মূলত দেশের বাজারে এলপিজির নতুন দাম সমন্বয় করা হয়েছে। বিশ্ববাজারে গত কিছুদিন ধরে এলপিজির প্রধান উপাদান প্রোপেন ও বিউটেনের মূল্য ঊর্ধ্বমুখী থাকায় তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেশের আমদানিতে। মূলত বিশ্ববাজারের এই মূল্য fluctuations বা ওঠানামার ওপর ভিত্তি করেই প্রতি মাসে নিয়মিতভাবে নতুন দর নির্ধারণ করে থাকে কমিশন।

তবে খুচরা বাজারে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে সবসময় বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রির দীর্ঘদিনের অভিযোগ রয়েছে ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে। এর আগে থেকেই দেশজুড়ে এলপিজির তীব্র সরবরাহ সংকট এবং নির্ধারিত দামের চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের নানা অভিযোগ করে আসছিলেন সাধারণ ক্রেতারা। নতুন করে সিলিন্ডারের দাম আরও ২৫২ টাকা বৃদ্ধি পাওয়ায় মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের দৈনন্দিন বাজেটে বড় ধরনের টানাপোড়েন তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।