সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে মেধার ভিত্তিতে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও শেষ পর্যন্ত নিয়োগ পাননি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী মিশন আচার্য। ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কলাবাগান এলাকার স্থায়ী এই বাসিন্দা উপজেলা পর্যায়ে ১৭তম স্থান অর্জন করেছিলেন। কিন্তু তাঁর নিজের নামে কোনো বসতভিটা বা স্থায়ী বাড়ি না থাকায় এই শিক্ষকতার সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে অভাব-অনটনের সঙ্গে লড়াই করে পড়াশোনা শেষ করা এই তরুণের জীবনে এমন ঘটনায় গভীর হতাশার সৃষ্টি হয়েছে।

পরিবার ও ব্যক্তিগত সূত্রে জানা যায়, মিশন আচার্যের জন্মের বহু আগেই তাঁর বাবা পরিবার ছেড়ে চলে যান। এরপর থেকে মায়ের সঙ্গে ঝিনাইদহ শহরে বিভিন্ন ভাড়া বাসায় থেকে তিনি বড় হয়েছেন এবং পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন। কলাবাগান এলাকায় তাঁর জন্ম হলেও নিজের কোনো জমি বা বসতবাড়ি না থাকায় তিনি জন্মসূত্রে ভূমিহীন হিসেবেই বড় হয়েছেন। তাঁর মা মানুষের বাসায় কাজ করে অত্যন্ত কষ্ট করে ছেলেকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করেছেন। চরম আর্থিক সংকট ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বড় হওয়া এই তরুণ কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন না।

নিয়োগ প্রক্রিয়ার জটিলতা সম্পর্কে মিশন জানান, সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে জমির কাগজপত্র লাগতে পারে ভেবে তাঁর এক খালু গ্রামে তাঁকে দুই শতক জমি লিখে দেন। পুলিশি তদন্তের সময় তিনি সেই জমির দলিল জমা দিলেও সেখানে কোনো বসতবাড়ি না থাকায় আপত্তি ওঠে। তিনি দাবি করেন, পুলিশের পক্ষ থেকে প্রথমে ভূমিহীন সনদ কিংবা জমির দলিলের যেকোনো একটি দিলেই চলবে বলে জানানো হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত স্থায়ী ঠিকানায় নিজস্ব বসতভিটা না থাকার কারণ দেখিয়ে তাঁকে চূড়ান্ত নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, মিশন আচার্যের নিয়োগের ক্ষেত্রে স্থায়ী ঠিকানা ও বসতভিটা নিয়ে একটি জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। ইতিমধ্যে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে পুরো বিষয়টি লিখিতভাবে শিক্ষা অধিদপ্তরকে অবহিত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে দ্রুত এই সমস্যার একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান বের হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। অন্যদিকে, রাষ্ট্র ও সমাজের কাছে নিজের মেধার মূল্যায়ন চেয়ে চাকরিটি ফিরে পেতে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী ওই তরুণ শিক্ষকপ্রার্থী।