কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা দমন এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নোয়াখালী জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা পুলিশ। সম্প্রতি দিনব্যাপী পরিচালিত এই বিশেষ অভিযানে মোট ৬৭ জন কিশোরকে আটক করা হয়। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সমাজে অপরাধপ্রবণতা রোধ এবং তরুণ প্রজন্মকে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। জেলা পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিনের প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় এই অভিযান পরিচালিত হয়।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জেলার সুধারাম মডেল থানা, কোম্পানীগঞ্জ, বেগমগঞ্জ মডেল থানা, সেনবাগ, চাটখিল এবং চরজব্বরসহ বিভিন্ন থানা এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়। আটককৃতদের বেশিরভাগকেই পরবর্তীতে তাদের অভিভাবকদের থানায় ডেকে আনা হয়। পরিবারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কাছ থেকে ভবিষ্যতে এমন কর্মকাণ্ডে যুক্ত না হওয়ার মুচলেকা নেওয়ার পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এই প্রক্রিয়ায় মোট ৬২ জন কিশোরকে তাদের পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

তবে মুচলেকা দিয়ে সবাই ছাড়া পাননি, অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী বাকিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সোনাইমুড়ী থানায় একজনকে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় এবং অন্য একজনকে নিয়মিত মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। পাশাপাশি কবিরহাট থানায় তিনজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মুখোমুখি করা হয়, যেখানে আদালত তাদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ও অর্থদণ্ড প্রদান করে। আইনের সঠিক প্রয়োগের মাধ্যমে কিশোর অপরাধ দমনে পুলিশের এই ভূমিকা স্থানীয় মহলে বেশ প্রশংসিত হয়েছে।

অভিযানের বিষয়ে নোয়াখালী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আহমেদ পেয়ার গণমাধ্যমকে বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, কেবল পুলিশি অভিযান চালিয়েই কিশোর গ্যাং সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধান করা সম্ভব নয়। তাই অপরাধপ্রবণতা পুরোপুরি রোধ করতে নিয়মিত অভিযানের পাশাপাশি অভিভাবক, শিক্ষক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সমাজের সব স্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করে সচেতনতামূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখা হবে।