সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হঠাৎ করেই পাকিস্তানের উইকেটরক্ষক ব্যাটার আজম খানের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়ে। দেশটির কিংবদন্তি ক্রিকেটার মঈন খানের ছেলে আজমের মাত্র আটাশ বছর বয়সে মারা যাওয়ার খবরটি দ্রুতই চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীরা অত্যন্ত মর্মাহত হন। তবে এমন একটি সংবেদনশীল ও ভিত্তিহীন তথ্য নিজের চোখে দেখার পর রীতিমতো অবাক হয়েছেন এই তরুণ ক্রিকেটার। তিনি বুঝতে পারেননি কীভাবে কোনো ধরনের সত্যতা ছাড়াই একজন জীবিত মানুষের মৃত্যুর বানোয়াট খবর ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব।

ভুয়া এই খবরটি দ্রুত সবার নজরে আসায় এবং এর সত্যতা নিয়ে সংশয় তৈরি হওয়ায় আতঙ্ক কেটে যায়। নিজের মৃত্যুর খবর নিজেই পড়ে দারুণভাবে হেসে উঠেন এবং পুরো বিষয়টি নিয়ে রসিকতা করেন আজম খান। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি ব্যঙ্গ করে বলেন যে খুব দারুণ এক ক্রিকেটার ছিল, যে কি না পরদিনই পাকিস্তানের হয়ে মাঠে নামার কথা ছিল কিন্তু বেচারা মারা গেল। তার এই হাস্যরসাত্মক মন্তব্য প্রমাণ করে যে গুজবটি তাকে মানসিকভাবে কাবু করতে পারেনি, বরং তিনি বিষয়টিকে বেশ হালকাভাবেই নিয়েছেন।

বর্তমান সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির অপব্যবহার করে তারকা ব্যক্তিত্বদের নিয়ে এ ধরনের ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর প্রবণতা বিপজ্জনকভাবে বেড়ে গেছে। আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি করা ভিডিওগুলো এতটাই বাস্তবসম্মত মনে হয় যে সাধারণ মানুষের পক্ষে আসল ও নকলের তফাত করা কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে পাকিস্তানি তারকাদের ঘিরে সম্প্রতি অনলাইনে এ ধরনের মৃত্যুর গুজব রটানোর ঘটনা বেশ কয়েকবার লক্ষ্য করা গেছে, যা ডিজিটাল নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় এক উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

উল্লেখ্য যে, ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর থেকে জাতীয় দলের বাইরে রয়েছেন আজম খান। ডালাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের সেই স্মরণীয় ম্যাচটিতেই তাকে সর্বশেষ পাকিস্তানের জার্সি গায়ে মাঠে নামতে দেখা গিয়েছিল। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খুব একটা আলো ছড়াতে না পারলেও ঘরোয়া ও ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোতে নিয়মিত খেলে যাচ্ছেন তিনি এবং নিজের অভিজ্ঞতা ও পারফরম্যান্স দিয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে বেশ পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন।