চাঁদপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সরকারি জেনারেল হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগে ছাদের পলেস্তারা ধসে পড়ার অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হৃদরোগ বিভাগের পুরুষ ওয়ার্ডে এই দুর্ঘটনা ঘটে। হঠাৎ করেই ছাদের একটি অংশ খসে পড়ায় চিকিৎসাধীন রোগী এবং তাদের স্বজনদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণ বাঁচাতে সবাই হুড়োহুড়ি করে দিগ্‌বিদিক ছোটাছুটি শুরু করেন, যা পরিস্থিতিকে আরও বেশি ভীতিকর করে তোলে।

এই আকস্মিক দুর্ঘটনায় মোহাম্মদ আবুল খায়ের নামের এক রোগী গুরুতর আঘাত পান। পঞ্চাশ বছর বয়সী এই ব্যক্তি চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার মদননগর এলাকার বাসিন্দা আবদুল মান্নানের ছেলে। ওয়ার্ডের বিছানায় চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় হঠাৎ ছাদের ভারী পলেস্তারা তার মাথার ওপর এসে পড়ে। এতে তিনি মাথায় মারাত্মক জখম হন এবং রক্তাক্ত অবস্থায় চিৎকার শুরু করেন।

দুর্ঘটনার পরপরই উপস্থিত লোকজন ও স্বজনেরা আহত আবুল খায়েরকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে তাৎক্ষণিক ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করেন। সৌভাগ্যক্রমে বড় ধরনের কোনো প্রাণহানি না ঘটলেও এই ঘটনায় সাধারণ রোগীদের নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।

ঘটনার গুরুতর দিক বিবেচনা করে তাৎক্ষণিকভাবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। ধসে পড়া অংশের কাছাকাছি বিছানায় থাকা অন্য রোগীদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ হাসপাতালের ওই অংশটিকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করে তা ঘিরে ফেলে, যাতে পরবর্তীতে আর কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে।

এ বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মাহবুবুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, হাসপাতাল ভবনটির নির্মাণকাল খুব বেশি দীর্ঘ না হলেও এর বেশ কিছু অংশ ইতিমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে তাৎক্ষণিকভাবে অবহিত করা হয়েছে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় মেরামতের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।