রাজধানী বা এর আশেপাশের কোনো এক এলাকায় এক শিশুকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না দীর্ঘদিন ধরে। পরিবার ও প্রতিবেশীরা যখন ওই শিশুকে হন্যে হয়ে খুঁজছিলেন, তখনো কেউ বুঝতে পারেনি মর্মান্তিক কোনো ঘটনা ঘটে গেছে। তিন বছর বয়সী তায়িফা সুলতানা নামের ওই শিশুটির রহস্যজনক নিখোঁজ নিয়ে এলাকায় চরম উৎকণ্ঠা সৃষ্টি হয়েছিল। পরে পুলিশি অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে এক লোমহর্ষক সত্য, যা সবাইকে স্তব্ধ করে দেয়।

নিহত শিশু তায়িফা স্থানীয় বাসিন্দা ইলিয়াস খানের মেয়ে। ঘটনার দিন সকালে তাকে কোথাও দেখতে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা চারপাশ তল্লাশি শুরু করেন। কোথাও কোনো সন্ধান না পেয়ে একপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিষয়টি জানানো হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আশপাশের বাড়িঘর এবং সন্দেহভাজন স্থানগুলোতে তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করে।

তদন্তের একপর্যায়ে নিহতের ফুফু নার্গিস সুলতানার ঘরে তল্লাশি চালায় পুলিশ। তার ঘরে থাকা একটি বন্ধ বাক্স খুলতেই ভেতর থেকে শিশু তায়িফার নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। আকস্মিক এই ঘটনায় মুহূর্তের মধ্যে এলাকায় শোকের পাশাপাশি তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। উপস্থিত জনতা ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত সন্দেহে নিহতের ফুফু নার্গিস সুলতানাকে তৎক্ষণাৎ আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। পরবর্তীতে তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। শিশুটিকে কেন হত্যা করা হলো এবং এর পেছনে অন্য কোনো ক্ষোভ বা পারিবারিক বিরোধ কাজ করছিল কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে।