নিয়মিত দাঁত মাজার পরও অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে যে এই অভ্যাসে মুখের সব জীবাণু ধ্বংস হয় কি না। চিকিৎসকদের মতে, ব্রাশ করার মাধ্যমে সরাসরি জীবাণু বা ব্যাকটেরিয়া মারা যায় না। তবে এটি এমন একটি পরিবেশ তৈরি করে যাতে ব্যাকটেরিয়া সহজে মুখগহ্বরে বাসা বাঁধতে না পারে। মূলত দাঁত পরিষ্কার রাখার মূল উদ্দেশ্য হলো ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধির পথ রোধ করা এবং তাদের বংশবিস্তার প্রতিহত করা।

বিশেষজ্ঞরা রাতের বেলা খাওয়ার পরপরই দাঁত ব্রাশ করার ওপর বিশেষ জোর দিয়ে থাকেন। এর কারণ হলো ঘুমের সময় মুখগহ্বরে লালা নিঃসরণ কমে যায় এবং মুখের ভেতরটা তুলনামূলকভাবে নিষ্ক্রিয় থাকে। এ সময় দাঁতের ফাঁকে জমে থাকা খাবারের কণা খেয়ে ব্যাকটেরিয়া খুব দ্রুত বংশবিস্তার করে। নিয়মিত ব্রাশ এবং ফ্লসিং করলে এই ব্যাকটেরিয়াগুলো আর খাদ্যের উৎস বা অনুকূল পরিবেশ পায় না, যা পরবর্তী সময়ে দাঁতে গর্ত বা পচন ধরা থেকে রক্ষা করে।

দিনের বেলায় আমরা নানা কাজে ব্যস্ত থাকি এবং কথা বলার সময় জিহ্বার স্বাভাবিক নড়াচড়ার কারণে ব্যাকটেরিয়া সুবিধা করতে পারে না। তবে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ব্রাশ করার পাশাপাশি ফ্লসিং বা সুতা দিয়ে দাঁতের ফাঁকগুলো পরিষ্কার করা অত্যন্ত জরুরি। এ ছাড়া দাঁত পরিষ্কারের জন্য অতিরিক্ত গরম পানি ব্যবহার করা উচিত নয়, কারণ এতে ব্রাশের ফাইবার নরম হয়ে কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলে এবং পাইপলাইন থেকে ক্ষতিকর রাসায়নিকও আসতে পারে।

ব্রাশ করার পর টুথব্রাশটি ভালোভাবে ধুয়ে শুকিয়ে রাখা উচিত যাতে পরবর্তী ব্যবহারের সময় সেটি জীবাণুমুক্ত থাকে। স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখতে এবং সঠিক উপায়ে মুখ পরিচ্ছন্ন রাখতে প্রতি দুই থেকে তিন মাস পরপর ব্রাশ পরিবর্তন করা অত্যন্ত বাঞ্ছনীয়। সঠিক নিয়মে এই দন্ত্য পরিচর্যা বজায় রাখলে মুখের দুর্গন্ধ ও বিভিন্ন দন্তরোগ থেকে দূরে থাকা সম্ভব হয়।