ঢাকার আদালত থেকে হাজিরা শেষে কাশিমপুর কারাগারে ফেরার পথে শৌচাগারে যাওয়ার কথা বলে প্রিজন ভ্যান থেকে পালিয়ে গেছে ২৫ মামলার শীর্ষ আসামি রাজা ওরফে পিচ্চি রাজা। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার পরপরই দায়িত্ব অবহেলার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে পুলিশের পাঁচ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজত থেকে একজন দুর্ধর্ষ আসামির এমন পলায়ন নিয়ে চারদিকে তীব্র আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। পলাতক এই অপরাধীকে আইনের আওতায় আনতে বর্তমানে পুলিশের একাধিক দল মাঠে নেমেছে।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, আসামির পলায়নের পরপরই পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং দায়ীদের চিহ্নিত করতে উপকমিশনারের নেতৃত্বে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটির জমা দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী পরবর্তীতে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দায়িত্ব পালনকালে এ ধরনের মারাত্মক ত্রুটি ভবিষ্যতে রোধ করতে পুলিশ প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

কারাগার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত কিছুদিন আগে রাজাকে ঢাকার একটি আদালতে হাজির করার জন্য কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে প্রিজন ভ্যানে করে নিয়ে যাওয়া হয়। আদালতের আইনি কার্যক্রম শেষে বিকেলে তাকে আবার একই কারাগারে ফিরিয়ে আনার সময় এই আকস্মিক ঘটনা ঘটে। পথিমধ্যে প্রিজন ভ্যানটি গাজীপুরের নাওজোর এলাকায় পৌঁছালে আসামি রাজা প্রাকৃতিক কাজ সারার কথা বলে গাড়ি থামানোর অনুরোধ জানায়। এরপর নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশ সদস্যরা তাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে স্থানীয় একটি শৌচাগারে নিয়ে গেলে সে কৌশলে পালিয়ে যায়।

মোহাম্মদপুর থানা সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের মে মাসের মাঝামা সময়ে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার শীর্ষ মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত এই রাজাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। নেপাল থেকে বিমানযোগে দেশে ফেরার সুনির্দিষ্ট খবরের ভিত্তিতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। ওই সময় ইমিগ্রেশন পুলিশের সহায়তায় তার স্ত্রী ও শ্যালককেও গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে কুড়িটিরও বেশি গুরুতর মামলা রয়েছে।