আসন্ন একাডেমি অ্যাওয়ার্ডসের অস্কারের ৯৯তম আসরে ‘বেস্ট ইন্টারন্যাশনাল ফিচার ফিল্ম’ বিভাগে প্রতিযোগিতা করার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনীত হয়েছে বাংলাদেশের সিনেমা ‘রইদ’। মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত এই চলচ্চিত্রটি আগামী বছরের মার্চ মাসে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্ব চলচ্চিত্রের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই আসরে দেশের প্রতিনিধিত্ব করবে। সম্প্রতি রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে অস্কার বাংলাদেশ কমিটির পক্ষ থেকে এই সিনেমার নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। বাংলাদেশ ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজের সভাপতি ও অস্কার বাংলাদেশ কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে এই সিদ্ধান্তের কথা গণমাধ্যমকে জানান।

এবারের অস্কারে অংশগ্রহণের জন্য প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের মোট পাঁচটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র জমা পড়েছিল। জমা হওয়া সিনেমাগুলোর মধ্যে ছিল নূরুল আলম আতিকের ‘মানুষের বাগান’, মেজবাউর রহমান সুমনের ‘রইদ’, রেদওয়ান রনির ‘দম’, মোহাম্মদ তাওকীর ইসলামের ‘দেলুপি’ এবং আকাশ হকের ‘দ্য ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল’। পরবর্তী সময়ে প্রতিযোগিতার দৌড় থেকে ‘মানুষের বাগান’ সিনেমাটি স্বেচ্ছায় নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয়। বাকি থাকা চারটি চলচ্চিত্রের মধ্য থেকে যাচাই-বাছাই ও পুঙ্খানুপুঙ্খ বিচার-বিশ্লেষণ শেষে সিলেকশন কমিটির সদস্যরা সর্বসম্মতিক্রমে ‘রইদ’ সিনেমাটিকে চূড়ান্ত নির্বাচন করেন।

দেশের সিনেমা অস্কারে লড়বে—এমন খবরে দারুণ উচ্ছ্বসিত ও আনন্দিত নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমন। নিজের অনুভূতির কথা প্রকাশ করে তিনি জানান যে এই অর্জন অত্যন্ত আনন্দের কারণ এটি সম্পূর্ণ তাদের নিজস্ব অঞ্চলের মৌলিক গল্প। এখানকার সংস্কৃতি, মানুষের জীবনযাত্রা ও চিন্তাধারার ওপর ভিত্তি করে সিনেমাটি তৈরি হয়েছে যা কেবল বাণিজ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, বরং এর একাডেমিক ও নান্দনিক গুরুত্বও রয়েছে। নির্মাতা আরও উল্লেখ করেন যে একসময় বাংলাদেশ থেকে অস্কারে পাঠানোর মতো মানসম্মত সিনেমা পর্যাপ্ত ছিল না, তবে বিগত কয়েক বছর ধরে নিয়মিতভাবেই ভালো মানের চলচ্চিত্র দেশের প্রতিনিধিত্ব করছে যা আমাদের চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক একটি বিষয়।

‘রইদ’ সিনেমার মূল কাহিনীর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সাধু ও তার স্ত্রী পাগলির মধ্যকার সম্পর্কের এক সরল অথচ অত্যন্ত গভীর আখ্যান। প্রেম, বিরহ ও নীরবতার আবহে মানবজীবনের চিরন্তন কিছু বোধ ও উপলব্ধিকে এই চলচ্চিত্রে চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। সিনেমাটির কেন্দ্রীয় দুটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অত্যন্ত প্রশংসনীয় অভিনয় করেছেন মোস্তাফিজুর নূর ইমরান ও নাজিফা তুষি। উল্লেখ্য, দর্শকের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলে সিনেমাটি এর আগে নির্দিষ্ট একটি উৎসবের প্রাক্কালে বড় পর্দায় মুক্তি পেয়েছিল এবং সমালোচকদের নজর কেড়েছিল।