গত ফেব্রুয়ারি মাসের জাতীয় নির্বাচনে জয়লাভের পর বিএনপি সরকার গঠন করার ইতোমধ্যে ছয় মাসের বেশি সময় অতিক্রান্ত হয়েছে। তবে এই দীর্ঘ সময়েও দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কাঙ্ক্ষিত কোনো উন্নতি ঘটেছ কি না, তা নিয়ে জনমনে বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সাধারণ মানুষের মাঝে সরকারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নানা সংশয় তৈরি হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতি নিয়ে উদ্বেগ দিন দিন বাড়ছে।

বিশেষ করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের একাংশের বিরুদ্ধে হামলা, চাঁদাবাজি এবং জোরপূর্বক দখলের গুরুতর অভিযোগ উঠছে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য জেলা ও মহানগরে এই ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের চিত্র প্রায়ই সামনে আসছে। সাধারণ ব্যবসায়ী ও সাধারণ নাগরিকরা এই পরিস্থিতির কারণে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে একটি সিন্ডিকেট যেভাবে অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে, তা দ্রুত দমন করা সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এই ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রশাসন কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথা বললেও মাঠপর্যায়ে তার কার্যকর বাস্তবায়ন দেখা যাচ্ছে না। ফলে সাধারণ মানুষের মনে সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে নানা প্রশ্নের উদ্রেক হচ্ছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ক্ষমতাসীন দলের নীতিনির্ধারকদের পক্ষ থেকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হলেও অপরাধপ্রবণতা পুরোপুরি রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। জনস্বার্থে এই ধরনের বেআইনি দখল ও চাঁদাবাজি শক্ত হাতে দমন করা না গেলে সরকারের সার্বিক অর্জন প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে বলে সতর্ক করছেন সংশ্লিষ্টরা।