জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ভ্যাট অনুবিভাগ তামাকজাত সিগারেটের নতুন খুচরা মূল্য নির্ধারণ করে একটি আনুষ্ঠানিক আদেশ জারি করেছে। সম্প্রতি এনবিআরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এই আদেশে বাজারে বিক্রi হওয়া ১০ শলাকার সিগারেটের বিভিন্ন স্তরের দাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। নতুন এই কাঠামোর আওতায় সর্বনিম্ন স্তরের প্রতি প্যাকেট সিগারেটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৫ টাকা এবং সর্বোচ্চ স্তরের জন্য এই মূল্য রাখা হয়েছে ২১০ টাকা। এছাড়া মধ্যবর্তী স্তরগুলোর জন্যও আলাদা দামের কথা বলা হয়েছে। আইনগত বিধান ও যথাযথ নিয়মনীতি মেনে এনবিআরের সদস্য মো. আজিজুর রহমানের স্বাক্ষরে এই আদেশ কার্যকর করা হয়েছে।

নতুন নির্ধারিত মূল্য কাঠামো অনুযায়ী, সিগারেটের চারটি স্তরের মধ্যে দ্বিতীয় স্তরে প্রতি ১০ শলাকার মূল্য ৭২ টাকা এবং তৃতীয় স্তরে তা ১৬০ টাকা করা হয়েছে। তবে লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো, নতুন এই মূল্য বিন্যাসেও প্রতিটি স্তরে সম্পূরক শুল্কের হার অভিন্নভাবে ৬৭ শতাংশ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। গত কিছুদিন আগে প্রকাশিত বাংলাদেশ গেজেটের নির্দেশনার আলোকে স্থানীয় বাজারে সরবরাহের ক্ষেত্রে এইচএস কোডের এই তামাকপণ্যগুলোর নতুন দাম তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করা হয়েছে। এর মাধ্যমে চলতি বছরের জুন মাসে জারীকৃত পূর্ববর্তী সাধারণ আদেশটি সম্পূর্ণভাবে বাতিল বলে গণ্য করা হবে।

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি মাথায় রেখে তামাকপণ্যের ব্যবহারে কিছু সুনির্দিষ্ট কড়াকড়ি আরোপ করেছে রাজস্ব কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে ফ্লেভারিং ক্যাপসুলযুক্ত সিগারেট তরুণ ও নতুন প্রজন্মের মধ্যে ধূমপানের আকর্ষণ বাড়িয়ে দেওয়ায়, স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে এ ধরনের পণ্য মধ্যম স্তরের নিচে অর্থাৎ প্রথম বা দ্বিতীয় নিম্ন স্তরে বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি, নির্দিষ্ট কোনো ব্র্যান্ডের সিগারেট বাজারে আগে থেকে যে দামে প্রচলিত ছিল, কোনো অবস্থাতেই তার চেয়ে কম মূল্যে তা বিক্রি করা যাবে না। প্রতিটি প্যাকেটের গায়ে শলাকার সঠিক সংখ্যা, নির্ধারিত খুচরা মূল্য এবং পণ্যের প্রকৃতি স্পষ্ট ও স্থায়ীভাবে ছাপানোর কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কারখানায় সঠিক শুল্ক আদায় ও রাজস্ব ফাঁকি রোধে কঠোর মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা নিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। প্রতিটি সিগারেট উৎপাদনকারী কারখানায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক ভ্যাট কর্মকর্তা মোতায়েন করার জন্য সংশ্লিষ্ট মূসক কমিশনারদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আগের পুরোনো প্যাকেটের ওপর নতুন দামের সিল মেরে বাজারজাত করার সুযোগ রাখা হলেও ব্যান্ডরোলের জটিলতা এড়াতে দ্রুত নতুন মুদ্রিত মোড়ক ব্যবহারের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। কারখানার সমাপনী মজুদ এবং রাজস্ব হ্রাস-বৃদ্ধির তুলনামূলক হিসাব নির্দিষ্ট ছকে প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে নিয়মিতভাবে এনবিআরে পাঠাতে হবে।