প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির সঙ্গে তাল মেলাতে চীনের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই বিষয়ের পাঠদান শুরু হয়েছে। সম্প্রতি শুরু হওয়া শরৎকালীন শিক্ষাবর্ষ থেকেই দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই আধুনিক প্রযুক্তির পাঠ্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ভবিষ্যতের পড়ালেখা ও কর্মক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের দক্ষ করে তুলতে এই উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির শিক্ষা প্রশাসন। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কেবল এআই প্রযুক্তির ব্যবহারই শেখানো হচ্ছে না, বরং এই প্রযুক্তির দেওয়া তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং সঠিক প্রশ্ন করার কৌশলও শেখানো হচ্ছে।

নতুন এই পাঠ্যক্রমের অংশ হিসেবে ব্যবহারিক ক্লাসে শিক্ষার্থীরা নিজেরাই ছোটখাটো প্রোগ্রাম তৈরি এবং ছবি শনাক্তকরণের মতো কাজ হাতে-কলমে শিখছে। পূর্ব চীনের চিয়াংসু প্রদেশের নানচিং কেলিহুয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এমন একটি ক্লাসে শিক্ষার্থীদের ট্যাবলেট ব্যবহার করে বুদ্ধিমান বিক্রয়যন্ত্রের কার্যপ্রণালি তৈরি করতে দেখা গেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পেছনের কার্যক্রম ও বিপুল পরিমাণ প্রশিক্ষণ তথ্যের ধারণা শিক্ষার্থীদের মাঝে পরিষ্কার করতে এই ধরনের বাস্তবমুখী কার্যক্রম বেশ কার্যকর ভূমিকা রাখছে। বারবার ভুল সংশোধন করার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা প্রযুক্তিগত কাজের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করছে।

শুধু তথ্যপ্রযুক্তির ক্লাস নয়, বরং ভাষা ও ভূগোলের মতো নিয়মিত পাঠ্যকালেও এআই প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহার নিশ্চিত করা হচ্ছে। বেইজিং ন্যাশনাল ডে স্কুলের বিভিন্ন ক্লাসে শিক্ষার্থীরা প্রাচীন সেতু সম্পর্কে তথ্য খোঁজা কিংবা সম্পদনির্ভর শহরের অর্থনৈতিক পরিবর্তন বিশ্লেষণে এআইয়ের সহায়তা নিচ্ছে। তবে প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে শিক্ষকদের পক্ষ থেকে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে, যাতে শিক্ষার্থীরা অন্ধভাবে প্রযুক্তির ওপর নির্ভর না করে প্রথমে নিজেরা চিন্তা করতে পারে। চীনের বিভিন্ন প্রাদেশিক অঞ্চল ইতোমধ্যে নিজস্ব পাঠ্যক্রম নির্দেশিকা তৈরি করেছে এবং চিয়াংসু প্রদেশে এটি পুরোপুরি চালু হয়েছে।

পড়াশোনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অন্তর্ভুক্তি দেশের শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চলেও ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। শানতোং প্রদেশে বাধ্যতামূলক শিক্ষার অংশ হিসেবে প্রথম শ্রেণি থেকেই নির্দিষ্ট সংখ্যক ক্লাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যা উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত ঐচ্ছিক বিষয় হিসেবেও চালুর সুযোগ রাখছে। দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, আগামী দিনে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের সামগ্রিক পাঠ্যক্রমের সঙ্গে এআই শিক্ষাকে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত করা হবে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও অনুন্নত অঞ্চলের বিদ্যালয়গুলোতে এআই শিক্ষা কেন্দ্রগুলোকে শক্তিশালী করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।