জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশনে তেহরানের প্রতি ওয়াশিংটনের বৈরী নীতির ঘোর বিরোধিতা করেছে বেইজিং। সম্প্রতি বিশ্ব সংস্থার উচ্চপর্যায়ের ওই সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে চীনের শীর্ষস্থানীয় এক নেতা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আমেরিকার একতরফা অবস্থানের কঠোর সমালোচনা করেন। বিশ্বমঞ্চে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে বেইজিং।

সম্মেলনে চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হান ঝেং তার দেশের শক্ত অবস্থান তুলে ধরে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংকটে আমেরিকার বর্তমান নীতি কোনো গঠনমূলক সমাধান আনছে না। বেইজিং মনে করে, বাইরের শক্তির অযাচিত হস্তক্ষেপ এবং কঠোর নিষেধাজ্ঞা কোনো দেশের সঙ্গেই সুসম্পর্ক তৈরির পথ সুগম করে না। বরং এই ধরনের বৈরী পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে বলে মন্তব্য করেন চীনা প্রতিনিধি।

বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ইরান ইস্যুতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রভাব বরাবরই তীব্র। এর আগে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে তেহরানের ওপর থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পক্ষে জোরালো সওয়াল করেছে চীন। বেইজিংয়ের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক নীতির অংশ হিসেবেই মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটির সঙ্গে তাদের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদারত্ব বজায় রয়েছে।

জাতিসংঘের মতো গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক মঞ্চে চীনের এমন প্রকাশ্য অবস্থান বৈশ্বিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের গবেষকরা মনে করছেন, মার্কিন প্রভাববলয়কে পাশ কাটিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের প্রভাব বিস্তার এবং বহুপাক্ষিক কূটনীতি জোরদার করতেই চীন এমন মন্তব্য করেছে। এর ফলে ভবিষ্যতে বৈশ্বিক পরাশক্তিগুলোর মধ্যকার কূটনৈতিক দূরত্ব আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।