বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বামরাইল বাজারে এক ব্যক্তিকে চুরির অভিযোগে আটক করে মারধর করার ঘটনা ঘটেছে। ভোরের আলো ফোটার আগেই স্থানীয় লোকজন অনিক হাওলাদার নামের ওই ব্যক্তিকে একটি খুঁটির সঙ্গে বেঁধে শারীরিক নির্যাতন চালান। এই পরিস্থিতিতে চারপাশের উত্তেজনাকর পরিবেশ এবং মানুষের ভিড় উপেক্ষা করে সেখানে উপস্থিত হয় তার নয় বছরের একটি ছোট মেয়ে। বাবার ওপর চলা এই নির্যাতন দেখে শিশুটির কান্নার রোল চারপাশের থমথমে পরিস্থিতিকে আরও বেশি আবেগঘন করে তোলে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, অনিক হাওলাদার এর আগেও বেশ কয়েকবার চুরির অভিযোগে ধরা পড়েছিলেন এবং স্থানীয়ভাবে সেসব ঘটনার মীমাংসা করা হয়েছিল। তবে বারবার এমন অভিযোগ ওঠার কারণেই স্থানীয়দের একাংশ উত্তেজিত হয়ে তাকে ধরে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে ফেলেন। ঘটনার সময় উৎসুক জনতার ভিড় বাড়তে থাকে এবং চারদিকে নানা গুঞ্জন ও চিৎকার শুরু হয়, যা পুরো বাজার এলাকায় এক ধরনের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।

বাবার ওপর চলা এমন নির্মম মারধরের দৃশ্য সহ্য করতে না পেরে ছোট্ট মেয়েটি ভিড় ঠেলে সামনে এগিয়ে আসে এবং হাত জোড় করে উপস্থিত লোকজনকে বাবাকে না মারার মিনতি জানায়। এরপর সে বাড়ি থেকে একটি কাপে চা এবং কিছু রুটি নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। বাবার মুখে চায়ের মধ্যে ভেজানো রুটি নিজ হাতে তুলে দিতে দিতে মেয়েটি বলতে থাকে, দেখো বাবা, তোমার কিচ্ছু হবে না। পাশাপাশি বাবার শরীরের ব্যথার স্থানে সে তার ছোট হাত বুলিয়ে সান্ত্বনা দিতে থাকে এবং জানতে চায় তার বেশি ব্যথা লেগেছে কি না।

উপস্থিত লোকজনের সামনে ঘটে যাওয়া এই করুণ ও স্নেহময় দৃশ্য সেখানে উপস্থিত অনেক মানুষকে আবেগপ্রবণ করে তোলে এবং তাদের চোখে পানি এনে দেয়। পরবর্তীতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় একটি সালিশি বৈঠকের মাধ্যমে মানবিক দিক বিবেচনা করে অনিক হাওলাদারকে ছেড়ে দেওয়া হয়। উজিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রকিবুল ইসলাম জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনার ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছিল। তবে স্থানীয়রা নিজেদের মধ্যে বিষয়টি মীমাংসা করায় এ ব্যাপারে থানায় কেউ কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করেননি।