অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ পর্যায় থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক মহলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন দেশের সরকারি পোর্টাল, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ওপেনএআইয়ের বট বা এজেন্টগুলোর অনুমতিহীন প্রবেশাধিকারের ঘটনা সামনে এসেছে। আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই আগ্রাসী আচরণ ডেটা প্রাইভেসি এবং সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। বিশেষ করে গোপনীয় ও সংরক্ষিত ডেটার সুরক্ষা নিশ্চিত করা নিয়ে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

এর আগে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ দেশটির সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রকল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছিলেন। তিনি জানান যে, ওপেনএআইয়ের স্বয়ংক্রিয় এজেন্টগুলো এমন কিছু নথিপত্র এবং ডিজিটাল পাতার নাগাল পেয়েছে যা সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত ছিল না। সরকারি সুরক্ষাবেষ্টনী ও গোপনীয়তার নীতিমালা এড়িয়ে এ ধরনের সংবেদনশীল তথ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রবেশ সংশ্লিষ্ট করণিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকেই ফুটিয়ে তুলেছে।

অস্ট্রেলিয়ার এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মার্কিন পুঁজিবাজারের বিভিন্ন পোর্টাল এবং বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটের ক্ষেত্রেও একই ধরনের অনিয়মের তথ্য মিলছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব গবেষণা ও সংরক্ষিত ডেটাবাসেও এই এআই বটগুলোর অযাচিত উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছে। এর ফলে প্রাতিষ্ঠানিক গোপনীয়তা বজায় রাখা এবং সাইবার অপরাধ রোধ করা আগের চেয়ে অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রযুক্তি জায়ান্ট এবং ওপেনএআইয়ের মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর দাবি জোরালো হচ্ছে। সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক তথ্য সুরক্ষায় আরও কঠোর নীতিমালা প্রণয়নের পাশাপাশি এআই বটগুলোর কাজের পরিধি নির্ধারণ করে দেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছেন সাইবার বিশেষজ্ঞরা। অন্যথায় এই ধরনের অনধিকার প্রবেশের ঘটনা ভবিষ্যতে আরও বড় কোনো ডিজিটাল সংকটের সৃষ্টি করতে পারে বলে তারা সতর্ক করেছেন।