জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশনে প্রথমবারের মতো ভাষণ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক রূপরেখা এবং কূটনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ আকর্ষণ করেন তিনি। তাঁর এই বক্তব্যে দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং একটি জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনের সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার উঠে আসে। বিশ্বনেতাদের সামনে এটি ছিল বর্তমান সরকারের নীতি নির্ধারণী অবস্থান স্পষ্ট করার একটি বড় সুযোগ।

ভাষণে প্রধানমন্ত্রী দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির পাশাপাশি একটি বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান, দেশের আপামর জনসাধারণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে বর্তমান প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ভারসাম্য রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের জোরালো ভূমিকার কথা তুলে ধরেন তিনি। সুশাসন প্রতিষ্ঠায় দুর্নীতি দমনের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতির কথাও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।

বিশ্বমঞ্চে দেশের সার্বভৌমত্ব এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ওপর ভিত্তি করে বৈদেশিক সম্পর্ক বজায় রাখার ঘোষণা দেন সরকারপ্রধান। আঞ্চলিক শান্তি রক্ষা ও সন্ত্রাস দমনে বাংলাদেশ সবসময় বিশ্ববাসীর পাশে থাকবে বলে তিনি আশ্বাস দেন। এছাড়া বর্তমান পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থাকে আরও কার্যকর ও মানবিক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি। বিশ্বনেতারা তাঁর এই বক্তব্যে বাংলাদেশের নতুন ভাবমূর্তির প্রতিফলন দেখতে পেয়েছেন বলে কূটনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।

জাতিসংঘের এই অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ দেশের অভ্যন্তরীণ সংস্কার কার্যক্রমকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরেছে। এই সফরের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ করার ক্ষেত্রে নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। দেশের জনগণের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবায়নে বিশ্ব সম্প্রদায়ের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। বিশ্বমঞ্চে এই সফল উপস্থিতি বাংলাদেশের কূটনৈতিক ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।