যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের রাষ্ট্রীয় সফরে সবার আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন তাঁর স্ত্রী পেং লিইউয়ান। মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গে কোনো ধরনের অনুবাদকের সাহায্য ছাড়াই ইংরেজিতে সাবলীল কথোপকথন চালিয়ে যান তিনি। ঐতিহ্যবাহী অথচ আধুনিক নকশার চীনা পোশাকে উপস্থিত হয়ে তিনি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বেইজিংয়ের একটি আকর্ষণীয় ও ভিন্ন ভাবমূর্তি তুলে ধরেন। কূটনৈতিক সম্পর্কের মারপ্যাঁচ ছাপিয়ে তাঁর এই উপস্থিতি বিশ্ববাসীর নজর কাড়ে এবং দুই পরাশক্তির সম্পর্কে এক ধরনের উষ্ণতা যোগ করে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্কের তত্ত্বে যাকে ‘সফট পাওয়ার’ বা নরম কূটনীতি বলা হয়, তার এক দারুণ প্রদর্শন করলেন চীনের ফার্স্ট লেডি। গত ২৪ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটনের স্মিথসোনিয়ান ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব এশিয়ান আর্টে একটি শিশু শিল্পীদের গানের দল চীনের জনপ্রিয় লোকগান ‘জেসমিন ফ্লাওয়ার’ পরিবেশন করে। সেই অনুষ্ঠানে পেং লিইউয়ান নীরবে গানটির সঙ্গে সুর মিলিয়ে কণ্ঠ মেলান এবং শিশু কিশোরদের মন জয় করেন। গান পরিবেশন শেষে আনন্দিত শিশুরা তাঁকে ভালোবেসে ‘মা পেং’ বলে সম্বোধন করে, যা উপস্থিত সকলের হৃদয়ে গভীর রেখাপাত করে।

ওয়াশিংটনে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত শিয়ে ফেং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে এই চমৎকার মুহূর্তের একটি ভিডিও ক্লিপ শেয়ার করেছেন। তিনি জানান যে পেং মার্কিন কিশোর-কিশোরীদের চীনা ভাষা ও সংস্কৃতির চর্চা অব্যাহত রাখতে উৎসাহিত করেছেন। একই সঙ্গে তিনি এই তরুণ প্রজন্মকে দুই দেশের মধ্যকার বন্ধুত্বের সেতু বা দূত হিসেবে কাজ করার আহ্বান জানান। ভূরাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, কঠিন রাজনৈতিক আলোচনার বাইরে পেংয়ের এই কোমল উপস্থিতি দুই দেশের কূটনৈতিক টানাপোড়েন কিছুটা হলেও কমাতে সাহায্য করেছে।

চীনের শীর্ষ নেতাদের স্ত্রীদের সাধারণত জনসমক্ষে খুব একটা দেখা যায় না, যার পেছনে দেশটির রাজনৈতিক ইতিহাসও জড়িত রয়েছে। তবে পেং লিইউয়ান সি চিন পিংয়ের প্রেসিডেন্ট হওয়ার অনেক আগে থেকেই দেশের জনপ্রিয় সামরিক সংগীতশিল্পী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা পেং অতীতে এইচআইভি এবং এইডসে আক্রান্ত রোগীদের সেবাসহ নানা সমাজকল্যাণমূলক কাজে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন। রাজনৈতিক জটিলতা থেকে দূরে থেকে তাঁর এই মানবিক কর্মকাণ্ড এবং সাংস্কৃতিক সংযুক্তি চীনকে বিশ্বমঞ্চে এক নতুন উচ্চতায় উপস্থাপন করেছে।