ইউক্রেনের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোয় রাশিয়ার সামরিক আগ্রাসন অব্যাহত থাকলে মস্কোর জন্যও আসন্ন শীতকাল অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক করে তোলা হবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলদিমির জেলেনস্কি। সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি এই যুদ্ধের নতুন কৌশলের কথা তুলে ধরেন। কিয়েভ সরকারের প্রধান স্পষ্টভাবে জানান যে, ইউক্রেনের নাগরিকদের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ করার কোনো সুযোগ মস্কোকে দেওয়া হবে না এবং এর উপযুক্ত ও কঠোর জবাব দিতে প্রস্তুত রয়েছে ইউক্রেনীয় বাহিনী।

জাতিসংঘের মঞ্চে দেওয়া বক্তব্যে ইউক্রেনীয় নেতা ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রসঙ্গ টেনে রাশিয়ার প্রচলিত ‘জেনারেল উইন্টার’ ধারণার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। অতীতে বিভিন্ন বিদেশি আক্রমণকারীর বিরুদ্ধে রাশিয়ার তীব্র শীতকাল দেশটির রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করলেও, এবার সেই শীতই মস্কোর বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ইউক্রেনের জনসাধারণ ইতিমধ্যে বুঝতে পেরেছে আসন্ন শীতকাল তাদের জন্য কতটা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে, কিন্তু আত্মরক্ষার খাতিরে কিয়েভের সামনে এর চেয়ে কঠোর পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প খোলা নেই।

রাশিয়ার জ্বালানি খাত এবং যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত করার এই কৌশলের অংশ হিসেবে কিয়েভ ইতিমধ্যেই দূরপাল্লার ড্রোনের মাধ্যমে রুশ তেল শোধনাগার, জ্বালানি সংরক্ষণাগার ও রপ্তানি কেন্দ্রগুলোতে বিভিন্ন সময় সফল অভিযান পরিচালনা করেছে। ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের মতে, বন্দর বা সাধারণ জ্বালানি সরবরাহ নয় বরং রুশ সামরিক বাহিনীর অর্থায়ন ও রসদ জোগান দেওয়ার ক্ষমতা খর্ব করাই এসব সামরিক অভিযানের মূল লক্ষ্য। বিগত বছরগুলোতে রুশ বাহিনী ইউক্রেনের বিদ্যুৎকেন্দ্র, সাবস্টেশন ও গ্যাস অবকাঠামো লক্ষ্য করে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালালেও এবার তার বিপরীতে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ার ইঙ্গিত দিল ইউক্রেন।

এর আগে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দেওয়ার প্রাক্কালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে একটি বিশেষ জ্বালানি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবও উত্থাপন করেছিলেন ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট। ওই প্রস্তাব অনুযায়ী, মস্কো যদি ইউক্রেনের বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি এবং তাপ সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর হামলা স্থায়ীভাবে বন্ধ করে, তবে কিয়েভও রুশ তেল শোধনাগারগুলোতে পাল্টা আক্রমণ চালানো থেকে বিরত থাকতে রাজি রয়েছে। তবে দুই দেশের মধ্যকার এই সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির কোনো আনুষ্ঠানিক রূপরেখা, সুরক্ষিত স্থাপনার সুনির্দিষ্ট তালিকা কিংবা যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত কোনো কার্যব্যবস্থা এখনও জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি।