আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অপরাধ প্রবণতা কমিয়ে আনতে কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। জেলার মোট আঠারোটি থানার পুলিশ একযোগে এই বিশেষ অভিযানটি পরিচালনা করে, যার মূল লক্ষ্য ছিল সক্রিয় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের আইনের আওতায় আনা। দীর্ঘদিন ধরে এই গ্যাংগুলোর তৎপরতা নিয়ে স্থানীয় নাগরিকদের মধ্যে অসন্তোষ ও উদ্বেগ বিরাজ করছিল।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই ধারাবাহিক অভিযানে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে মোট ছয়শ চব্বিশ জন কিশোরকে আটক করা হয়েছে। মূলত সন্ধ্যার পর বিভিন্ন অলিগলি, পার্ক এবং জনসমাগমপূর্ণ স্থানে এই গ্যাংয়ের সদস্যরা আড্ডা জমাত এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ত। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এবং স্থানীয় জনগণের অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে এই সুনির্দিষ্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়।

পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আটককৃত কিশোরদের থানায় এনে তাদের পূর্ববর্তী অপরাধের ইতিহাস ও সংশ্লিষ্টতা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা হচ্ছে। যাদের বিরুদ্ধে পূর্বে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ মিলবে, তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করে আদালতে সোপর্দ করা হবে। তবে তুলনামূলক কম বয়স্ক ও প্রথমবার ভুল করা কিশোরদের ক্ষেত্রে অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে মুচলেকা নিয়ে সংশোধনের জন্য ছেড়ে দেওয়া হতে পারে।

স্থানীয় সচেতন মহল ও অভিভাবকরা পুলিশের এই উদ্যোগকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন এবং এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কেবল আটক করেই দায়িত্ব শেষ নয়, বরং উঠতি বয়সী তরুণদের অপরাধ জগৎ থেকে দূরে রাখতে নিয়মিত নজরদারি ও সামাজিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।