মহাকাশে স্যাটেলাইটের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং সম্ভাব্য শত্রুতামূলক তৎপরতা কার্যকরভাবে মোকাবিলা করার উদ্দেশ্যে একটি নতুন সামরিক স্কোয়াড্রন গঠনের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য। সম্প্রতি ব্রিটিশ সরকারের প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়। দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে রয়্যাল এয়ার ফোর্স বা আরএএফের অধীনে নতুন এই ইউনিটটি কাজ শুরু করবে। আধুনিক যুগে মহাকাশভিত্তিক প্রযুক্তির ওপর সামরিক ও বেসামরিক খাতের ক্রমবর্ধমান নির্ভরতা বিবেচনা করেই এই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

নতুন এই সামরিক ইউনিটের আনুষ্ঠানিক নামকরণ করা হয়েছে নম্বর থ্রি স্পেস ইফেক্টস স্কোয়াড্রন। এই স্কোয়াড্রনে দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর বিভিন্ন শাখার দক্ষ ও বিশেষজ্ঞ সদস্যদের একত্র করা হয়েছে, যারা মহাকাশ গবেষণায় বিশেষ পারদর্শী। কক্ষপথে থাকা বিভিন্ন কৃত্রিম উপগ্রহ বা স্যাটেলাইট সুরক্ষায় তারা কাজ করবেন, যা ক্ষেপণাস্ত্রের সতর্কবার্তা পাঠানো, জরুরি যোগাযোগ রক্ষা এবং নিরাপদ জাহাজ চলাচলের পথ নির্দেশনার মতো অত্যাবশ্যকীয় সেবা প্রদান করে থাকে।

ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মহাকাশে সম্ভাব্য হুমকি পর্যবেক্ষণ ও সতর্কবার্তা দেওয়ার কাজে আরএএফের আরও দুটি ইউনিট—নম্বর ওয়ান স্পেস অপারেশনস স্কোয়াড্রন এবং নম্বর টু স্পেস ওয়ার্নিং স্কোয়াড্রন—ইতোমধ্যে নিয়োজিত রয়েছে। তবে নতুন স্কোয়াড্রনটি কেবল পর্যবেক্ষণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং এসব হুমকির বিরুদ্ধে সরাসরি ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেবে। শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিহত করতে ইলেকট্রনিক যুদ্ধসহ সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করবে এই ইউনিট।

যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং জানিয়েছেন, মহাকাশ জয়ের নতুন বিশ্ব প্রতিযোগিতায় দেশের অবস্থান শক্ত রাখতে এই উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি ছিল। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট টেনে তিনি উল্লেখ করেন যে অতীতে সমুদ্রপথ ও আকাশপথের নিয়ন্ত্রণই ছিল নিরাপত্তার মূল চাবিকাঠি, আর একবিংশ শতাব্দীতে মহাকাশের নিয়ন্ত্রণই নির্ধারণ করবে দেশের সার্বভৌমত্ব। নতুন এই স্কোয়াড্রনটি আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক উভয় ধরণের মহাকাশ অভিযানেই সহায়তা করবে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর প্রযুক্তিগত সক্ষমতা আরও বাড়ানো হবে।