আর্চারির বিশ্ব মঞ্চে এক ঐতিহাসিক সাফল্যের জন্ম দিয়ে লাল-সবুজের পতাকা উঁচিয়ে ধরেছেন বাংলাদেশের শীর্ষ তীরন্দাজ মো. রোমান সানা। নেদারল্যান্ডসে অনুষ্ঠিত বিশ্ব আর্চারি চ্যাম্পিয়নশিপের পুরুষদের রিকার্ভ ইভেন্টের ব্রোঞ্জ পদক নির্ধারণী লড়াইয়ে তিনি ইতালির তারকা খেলোয়াড় মাউরো নেসপোলের মুখোমুখি হন। অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই ম্যাচে ইতালীয় প্রতিপক্ষকে ৭-১ সেট পয়েন্টের ব্যবধানে পরাজিত করে পোডিয়ামে নিজের নাম লেখান এই ২৪ বছর বয়সী তরুণ। এর মাধ্যমে বিশ্ব আর্চারির কোনো আসরে প্রথমবার পদক জয়ের গৌরব অর্জন করল বাংলাদেশ, যা দেশের ক্রীড়া ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক হিসেবে যুক্ত হলো।

ম্যাচের শুরু থেকেই দারুণ ছন্দে ছিলেন খুলনার এই কৃতি সন্তান এবং বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানীয় প্রতিপক্ষকে একের পর এক নিখুঁত নিশানায় চাপে ফেলেন। প্রথম সেটে ২৮-২৭ পয়েন্টে জয় দিয়ে শুভসূচনা করার পর দ্বিতীয় সেটেও ২৯-২৮ পয়েন্টের ব্যবধানে জয় তুলে নেন রোমান। বিশ্বের ষষ্ঠ সেরা আর্চার মাউরো নেসপোলো ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে তৃতীয় সেটটি ২৯-২৯ পয়েন্টে ড্র করতে সক্ষম হন। তবে চতুর্থ ও শেষ সেটে রোমান তার সেরা নৈপুণ্য প্রদর্শন করে ২৯ পয়েন্ট সংগ্রহ করেন, যেখানে ইতালীয় প্রতিপক্ষ করতে পেরেছিলেন মাত্র ২৭ পয়েন্ট। ফলশ্রুতিতে ৭-১ সেটের স্পষ্ট ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে ব্রোঞ্জ পদক নিজেদের করে নেন রোমান সানা।

এই বিশ্ব আসরে পদক জয়ের আগে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রোমানের আরও বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য সাফল্য রয়েছে যা তার দীর্ঘ পরিশ্রমের সাক্ষ্য দেয়। তিনি এর আগে ২০১৪ সালে প্রথম এশিয়ান আর্চারি গ্রাঁ প্রি এবং ২০১৭ সালে কিরগিজস্তানে আন্তর্জাতিক আর্চারি টুর্নামেন্টে স্বর্ণপদক অর্জনের স্বাদ পেয়েছিলেন। এছাড়া তিনি দেশের মাটিতে এবং বাইরে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় একাধিক রৌপ্য পদকও নিজের ঝুলিতে ভরেছিলেন। তবে এসব সাফল্যের ছাপিয়ে নেদারল্যান্ডসের মাটিতে অর্জিত এই ব্রোঞ্জ পদক তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে উজ্জ্বল ও মর্যাদাপূর্ণ অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিশ্বের ৯২টি দেশের প্রায় দুই শতাধিক শীর্ষস্থানীয় তীরন্দাজদের পেছনে ফেলে এই সাফল্য অর্জন করা চাট্টিখানি কথা ছিল না। দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারতের মতো আর্চারিতে পরাশক্তি দেশগুলোর প্রতিযোগীদের মোকাবিলা করে রোমান প্রমাণ করেছেন যে সঠিক সুযোগ পেলে বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদরাও বিশ্বমঞ্চে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করতে পারে। উল্লেখ্য, এই টুর্নামেন্টে দারুণ পারফরম্যান্সের সুবাদেই তিনি এর আগে টোকিও অলিম্পিকে সরাসরি খেলার যোগ্যতাও অর্জন করেছিলেন। রোমান সানার এই বিশ্বজয়ী পারফরম্যান্স আগামী দিনে দেশের অন্য তীরন্দাজ ও উদীয়মান খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বড় স্বপ্ন দেখতে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করবে।