দীর্ঘ সময় ধরে কোনো ধরনের শিক্ষার্থী ভর্তি না করার গুরুতর অভিযোগে দেশের ৮৬টি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ বা শোকজ করেছে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড। ডিপ্লোমা পর্যায়ের এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থী ভর্তির কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে, যা নিয়মের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। বোর্ডের জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয় এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের নিষ্ক্রিয়তার কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে।

বোর্ডের নিয়মানুযায়ী, কারিগরি শিক্ষার মান বজায় রাখতে এবং সুনির্দিষ্ট নীতিমালা বাস্তবায়নের জন্য প্রতিটি অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত শিক্ষার্থী ভর্তি ও পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু তালিকাভুক্ত এই ৮৬টি প্রতিষ্ঠান গত তিন বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি করেনি। এর ফলে নির্ধারিত নীতিমালার শর্ত ভঙ্গ হয়েছে, যা কারিগরি শিক্ষা খাতের সামগ্রিক শৃঙ্খলার ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন ও স্বীকৃতি প্রদানসংক্রান্ত নীতিমালা-২০২০-এর বিধি ৫.৪ অনুযায়ী, টানা তিন বছর শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ থাকলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পাঠদান ও স্বীকৃতির অনুমতি বাতিলের কঠোর বিধান রয়েছে। এই বিধানের আলোকেই নোটিশপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী সন্তোষজনক জবাব পাওয়া না গেলে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী, কেন ওই সমস্ত প্রতিষ্ঠানের পাঠদানের অনুমতি বাতিল বা প্রত্যাহার করা হবে না এবং আগামী ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে তাদের ভর্তি কার্যক্রম কেন স্থগিত করা হবে না—সে বিষয়ে আগামী ১ অক্টোবরের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা জমা দিতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উপযুক্ত কারণ দর্শাতে ব্যর্থ হলে নীতিমালা মোতাবেক সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে আইনানুগ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে কারিগরি শিক্ষা বোর্ড।