ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় উৎসব গরবা উদযাপনের সময়কে কেন্দ্র করে দেশটির সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায় এবং নারীদের উদ্দেশ করে এক বিজেপি বিধায়ক অত্যন্ত উসকানিমূলক ও আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন। এই ঘটনার ফলে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে এবং বিভিন্ন মহলে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠেছে। অভিযুক্ত ওই নেতার বক্তব্য জনসমক্ষে আসার পর থেকেই সাধারণ মানুষের মধ্যেও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

উৎসবের মৌসুমে এ ধরনের বিভাজনামূলক ও কুরুচিকর বক্তব্য সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে নারীদের লক্ষ্য করে দেওয়া মন্তব্য নারী সমাজের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করেছে বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি ও বিবৃতি দেওয়া শুরু হয়েছে।

ক্ষমতাসীন দলের কোনো প্রতিনিধির এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্যের কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে দেশটির প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো। এআইএমআইএমের মতো দলগুলোও এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সংশ্লিষ্ট বিধায়কের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। বিরোধী নেতারা অভিযোগ করেছেন যে, রাজনৈতিক ফায়দা লুটতেই ইচ্ছাকৃতভাবে সমাজে সাম্প্রদায়িক উসকানি দেওয়া হচ্ছে।

এখন পর্যন্ত শাসক দলের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত প্রশাসনিক পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করা না হলেও রাজনৈতিক চাপ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি উঠেছে যে, এ ধরনের বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশাসনের আরও কঠোর হওয়া প্রয়োজন। আগামী দিনে এই ইস্যুটি ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে আরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।