সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের অভিযোগ ও নানা অনিয়মের সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে জামালপুর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে হঠাৎ অভিযান পরিচালনা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সম্প্রতি দুদকের একটি বিশেষ দল এই অভিযান চালিয়ে সেবামূলক এই প্রতিষ্ঠানে চলমান বিভিন্ন অসঙ্গতি খতিয়ে দেখে। অভিযানে সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি এবং ঘুষ লেনদেনের মতো গুরুতর অভিযোগের সত্যতা অনুসন্ধানের চেষ্টা করা হয়।

অভিযানকালে পাসপোর্ট প্রত্যাশীদের আবেদনপত্র নিবিড়ভাবে যাচাই-বাছাই করেন দুদক কর্মকর্তারা। এ সময় বেশ কিছু নির্দিষ্ট আবেদন ফরমে সন্দেহজনক কিছু সাংকেতিক চিহ্ন বা গোপন মার্কিং দেখতে পান তারা। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, অতিরিক্ত অর্থ বা উৎকোচ প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত করতেই এই ধরনের অভিনব কোড বা চিহ্ন ব্যবহার করা হতো।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এই সাংকেতিক চিহ্নগুলোর মাধ্যমে অসাধু চক্র খুব সহজেই বুঝতে পারত কোন আবেদনটির জন্য অতিরিক্ত ঘুষ দেওয়া হয়েছে এবং কোনটি দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। সাধারণ গ্রাহকরা যখন পাসপোর্ট পাওয়ার জন্য নির্ধারিত নিয়মে আবেদন করতেন, তখন দালাল চক্র বা ভেতরের লোকজনের যোগসাজশে এই বিশেষ কোডগুলো বসানো হতো। এর ফলে সাধারণ আবেদনকারীরা নানা ধরনের জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতার শিকার হতেন।

দুদকের এই আকস্মিক পদক্ষেপে পাসপোর্ট অফিসের ভেতরের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দালাল চক্রের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। দুর্নীতি দমন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জব্দকৃত আলামত ও প্রমাণের ভিত্তিতে পুরো বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘুষ ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে খুব দ্রুতই আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।