দিনাজপুরে আট বছর বয়সী শিশু রুহি আক্তার হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তার মায়ের প্রেমিককে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। গত কয়েকদিন আগে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার কিছুদিন পর পুলিশ একটি বাসা থেকে শিশুটির গলিত মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে এবং তারা দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও স্বজনরা আসামির উপযুক্ত বিচার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলেন। এর অংশ হিসেবে তারা দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত প্রায় পাঁচ ঘণ্টা একটানা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন। এই দীর্ঘ সময় সড়ক বন্ধ থাকায় ব্যস্ত মহাসড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে চরম জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়। যাত্রীরা তীব্র গরমে ও যানজটে আটকা পড়ে চরম বিপাকে পড়েন, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।
বিক্ষোভের খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। দীর্ঘক্ষণ ধরে চলা এই অবরোধ তুলে নেওয়ার জন্য আন্দোলনকারীদের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম ও কোতোয়ালি থানা পুলিশের একটি দল। তারা অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সঙ্গে বিক্ষুব্ধ জনতার কথা শোনেন এবং অপরাধীকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দেওয়ার দৃঢ় আশ্বাস প্রদান করেন।
জনপ্রতিনিধি ও পুলিশের পক্ষ থেকে ন্যায়বিচারের জোরালো আশ্বাস পাওয়ার পর বিক্ষুব্ধ জনতা তাদের আন্দোলন ও অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেন। এর ফলে ধীরে ধীরে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে এবং আটকে থাকা যাত্রীরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন। এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে আইনগত প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।