আসন্ন ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজধানীর রাজনৈতিক অঙ্গন এখন থেকেই বেশ সরগরম হয়ে উঠেছে। ভোটের আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণার আগেই উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়ে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে সক্রিয় অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি এবার ভোটের মাঠে নতুন রাজনৈতিক শক্তির উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই বহুমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়ায় রাজধানীজুড়ে এক ভিন্নধর্মী নির্বাচনী আমেজ তৈরি হয়েছে, যা ভোটারদের মধ্যেও বেশ আগ্রহ সৃষ্টি করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ঢাকার দুই সিটিতে এবার মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে ত্রিমুখী। একদিকে রয়েছে দীর্ঘদিনের নগর রাজনীতির পোড় খাওয়া নেতৃত্ব, যাদের রয়েছে নিজস্ব ভোট ব্যাংক এবং সাংগঠনিক শক্তি। অন্যদিকে, নতুন রাজনৈতিক শক্তিগুলো তরুণ ও উদ্যমী মুখ সামনে এনে ভোটারদের আকর্ষণের চেষ্টা চালাচ্ছে। কোথাও কোথাও স্থানীয় সংগঠনের শক্ত ভিত প্রার্থীদের বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে, আবার কোথাও ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা ও সামাজিক কাজের সুবাদে প্রার্থীরা আলোচনায় উঠে আসছেন। সব মিলিয়ে ত্রিমুখী এই লড়াইয়ের সমীকরণ বেশ জটিল আকার ধারণ করছে।

নির্বাচনী হাওয়া লাগার সঙ্গে সঙ্গেই সম্ভাব্য প্রার্থীরা বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান, গণসংযোগ এবং প্রচারণায় অংশ নিতে শুরু করেছেন। ওয়ার্ড থেকে শুরু করে মায়র পদ পর্যন্ত সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজেদের অবস্থান জানান দিতে নানা কৌশল অবলম্বন করছেন। ক্ষমতাসীন দল ছাড়াও অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর নীতিনির্ধারকরাও কৌশলগত অবস্থান নিয়ে এগোচ্ছেন। সাধারণ মানুষের মন জয় করতে প্রার্থীরা নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন এবং নাগরিক সমস্যার স্থায়ী সমাধানের আশ্বাস দিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।

রাজধানীবাসীর দীর্ঘদিনের নানা নাগরিক ভোগান্তি ও সমস্যা এবারের নির্বাচনে প্রধান ইস্যু হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যানজট, জলাবদ্ধতা, মশার উপদ্রব এবং নাগরিক সেবার মানোন্নয়নের মতো বিষয়গুলো প্রার্থীরা তাদের প্রচারণায় অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। তফসিল ঘোষণার পর এই রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বহুগুণ বেড়ে যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। শেষ পর্যন্ত কোন সমীকরণ ছাপিয়ে কার মাথায় বিজয়ের মুকুট উঠবে, তা নিয়ে নগরবাসীর মাঝে এখন থেকেই চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু হয়ে গেছে।