মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী দেশ সৌদি আরবের কাছে প্রায় অর্ধশত সর্বাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির একটি বড় পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। বিগত ট্রাম্প প্রশাসনের আমলে এই অস্ত্র বিক্রির প্রাথমিক অনুমোদন দেওয়া হলেও, বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম হয়েছে। এই সামরিক চুক্তি বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

তবে ওয়াশিংটনের এই অস্ত্র সরবরাহের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে বেশ কিছু বিতর্ক ও জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। মূলত ইসরায়েলের নিরাপত্তা স্বার্থের বিষয়টি এখানে প্রধান অন্তরায় হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ মার্কিন আইনের দীর্ঘদিনের নীতি অনুযায়ী মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের তুলনায় ইসরায়েলকে সবসময় সামরিক দিক থেকে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে হয়। সৌদি আরবের মতো দেশের বহুল প্রতীক্ষিত এই আকাশ প্রতিরক্ষা শক্তি অর্জন ইসরায়েলি নীতিনির্ধারকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।

এই সামরিক চুক্তির পেছনের কূটনৈতিক সমীকরণগুলো অত্যন্ত জটিল এবং তা বিভিন্ন আঞ্চলিক শক্তির স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। একদিকে ওয়াশিংটন মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের কৌশলগত মিত্রদের সামরিকভাবে শক্তিশালী করতে চায়, অন্যদিকে মিত্র দেশগুলোর অস্ত্রের সমতা বজায় রাখতে গিয়ে তেল আবিবের উদ্বেগের বিষয়টিও তাদের গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হয়। এই দ্বিমুখী নীতির কারণে মার্কিন প্রশাসনের নীতিনির্ধারকদের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট ভারসাম্য বজায় রাখা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।

সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রের এই যুদ্ধবিমান বিক্রির পরিকল্পনা কেবল দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা কাঠামোকে প্রভাবিত করার ক্ষমতা রাখে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই অস্ত্র সরবরাহ চুক্তি চূড়ান্ত রূপ লাভ করবে কি না এবং ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত চুক্তির শর্তগুলো কীভাবে বজায় রাখা হবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে জল্পনা-কল্পনা অব্যাহত রয়েছে।