প্রযুক্তি ডেস্ক: বাংলাদেশ নিজেদের মাতৃভাষায় নিজস্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মডেল তৈরির একটি যুগোপযোগী উদ্যোগ নিয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করেছে। দেশের নিজস্ব সংস্কৃতি, ভাষা এবং প্রযুক্তির উন্নয়নে এই পরিকল্পনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। তবে এই ধরনের একটি বৃহৎ প্রযুক্তিগত প্রকল্প হাতে নেওয়ার আগে এর নানাদিক নিয়ে বিভিন্ন মহলে বিস্তারিত আলোচনা চলছে।
একটি নিজস্ব এআই মডেল তৈরির প্রক্রিয়ায় বিশাল অঙ্কের আর্থিক বিনিয়োগের পাশাপাশি শক্তিশালী অবকাঠামোগত সক্ষমতা থাকা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে সুপারকম্পিউটার, বৃহৎ ডেটাসেন্টার এবং উন্নত সার্ভার সুবিধার মতো আধুনিক প্রযুক্তিগত অবকাঠামো ছাড়া এ ধরনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল সফলভাবে পরিচালনা করা প্রায় অসম্ভব।
বাংলাদেশ সরকারের তরফ থেকে এই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জোরালো আগ্রহ প্রকাশ করা হলেও, প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং সম্পদ দেশের ভেতরে পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রস্তুত আছে কিনা— তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা। কারণ আন্তর্জাতিক মানের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষণার জন্য যে ধরনের কারিগরি দক্ষতা ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন প্রয়োজন, তাতে বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা রয়ে গেছে।
এই পরিস্থিতিতে নিজস্ব এআই মডেল তৈরির স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হলে কেবল সরকারি উদ্যোগের ওপর নির্ভর না করে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ এবং আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে অংশীদারত্ব বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছেন প্রযুক্তিবিদরা। একই সঙ্গে দেশের তরুণ গবেষক ও প্রকৌশলীদের মেধা কাজে লাগিয়ে একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ তৈরি করার তাগিদও অনুভব করছেন সংশ্লিষ্টরা।