প্রযুক্তি ডেস্ক: দেশের নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং এ প্রযুক্তির সুফল সর্বস্তরে পৌঁছে দিতে নিজস্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অবকাঠামো গড়ে তোলার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন সরকারের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের নীতিনির্ধারকরা। সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এই পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, এআই প্রযুক্তির সুফল যেন কেবল নির্দিষ্ট কোনো শ্রেণির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং দেশের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে শ্রমজীবী মানুষের সন্তানরাও যেন এর সুফল ভোগ করতে পারে, সে লক্ষ্যেই কাজ চলছে।

সার্বভৌম এআই কাঠামোর রূপরেখা তুলে ধরে উপদেষ্টা জানান, প্রসেসিং চিপের মতো কিছু প্রযুক্তি বিদেশ থেকে আমদানি করতে হলেও সার্ভার ও কম্পিউটিং অবকাঠামো দেশের ভেতরেই স্থাপন করা হবে। এই উদ্দেশ্যে কালিয়াকৈর হাইটেক পার্কের জাতীয় ডেটা সেন্টারে পর্যাপ্ত জায়গা বরাদ্দ করা হয়েছে এবং সারা দেশে কয়েকটি নোড ও সিআরএস স্থাপনের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, বাংলা ভাষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সক্ষমতা বাড়াতে বাংলা লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল উন্নয়নের কাজ চলছে। এ কার্যক্রমে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে যুক্ত করে একটি শক্তিশালী গবেষণা ও উন্নয়নের পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ডিজিটাল রূপান্তর প্রসঙ্গে তিনি আরও জানান, সেবা শুধু অনলাইনে নিয়ে আসাই যথেষ্ট নয়, বরং নাগরিকের ভোগান্তি কমাতে সেবা গ্রহণের প্রক্রিয়া সহজ করাটাই আসল উদ্দেশ্য। বর্তমানে নাগরিকদের মৌলিক তথ্যের সমন্বয়ে একটি সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজ চলছে, যা সরকারি দপ্তরগুলোর কাজের গতি বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। এছাড়া সাইবার নিরাপত্তা জোরদার করতে এবং তথ্য ফাঁসের ঘটনা রোধ করতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। মোবাইল উৎপাদন ও টেলিযোগাযোগ খাতের সংস্কারের মাধ্যমে দেশীয় শিল্পকে এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় আধুনিক প্রযুক্তি পৌঁছে দেওয়ার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে বর্তমান প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে।